বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পর্যায়ে পৌঁছেছে। দীর্ঘ নির্মাণকাজ, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং হাজারো পরীক্ষা পেরিয়ে কেন্দ্রটির প্রথম উৎপাদন একক থেকে জাতীয় সঞ্চালনব্যবস্থায় বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী সেপ্টেম্বর মাসে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।
তবে রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি সাধারণ কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর মতো নয়। এখানে প্রতিটি যন্ত্রাংশ, নিরাপত্তাব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণপ্রক্রিয়া এবং জরুরি সুরক্ষাব্যবস্থা আলাদাভাবে পরীক্ষা করতে হয়। কোনো একটি পরীক্ষায় অসংগতি দেখা দিলে সেটি সংশোধন না করে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ নেই। ফলে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলেও পূর্ণমাত্রায় বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে আরও সময় লাগতে পারে।
রূপপুর কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা। কিন্তু কেন্দ্রটির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের অনেকে মনে করছেন, মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে সব পরীক্ষা শেষ করে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়া কঠিন হতে পারে। তাঁদের মতে, পরীক্ষামূলক উৎপাদন টানা ৭ থেকে ৮ মাস চলতে পারে। সে হিসাবে আগামী বছর প্রথম উৎপাদন একক থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশ, সামনে নিয়ন্ত্রিত বিভাজন বিক্রিয়া
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম উৎপাদন এককের চুল্লিপাত্রে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানোর কাজ গত ১২ মে শেষ হয়েছে। এটি কেন্দ্রটি চালুর পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি।
বর্তমানে জ্বালানি প্রবেশের পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা যাচাই চলছে। এসব পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলে চুল্লির ভেতরে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিভাজন বিক্রিয়া শুরু করা হবে। এই বিক্রিয়ায় প্রচুর তাপ উৎপন্ন হবে। সেই তাপে পানি বাষ্পে রূপান্তরিত হবে এবং বাষ্পের চাপে টারবাইন ঘুরবে। টারবাইনের সঙ্গে যুক্ত উৎপাদক যন্ত্রের মাধ্যমে তৈরি হবে বিদ্যুৎ।
এই প্রক্রিয়ায় রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে পরিচিতি পাবে। এটি শুধু নতুন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হওয়ার ঘটনা নয়; বরং দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, শিল্পায়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করবে।
হাজারো পরীক্ষার পরও বাকি জটিল ধাপ
রূপপুরের প্রথম উৎপাদন একক চালুর প্রস্তুতিতে ইতিমধ্যে বিপুলসংখ্যক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২ হাজার ৪৬টি পরীক্ষা সফলভাবে শেষ করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ৯০টি পরীক্ষা উত্তীর্ণ হয়েছে। এখন দ্বিতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত অংশে ১৮টি পরীক্ষা বাকি রয়েছে।
সংখ্যার দিক থেকে ১৮টি পরীক্ষা কম মনে হলেও এগুলোই সবচেয়ে জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর মধ্যে পড়ে। এসব পরীক্ষায় চুল্লির নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম, তাপমাত্রা ও চাপ নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা এবং জরুরি অবস্থায় কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়া যাচাই করা হতে পারে।
প্রতিটি পরীক্ষা শেষে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। কোনো অসামঞ্জস্য ধরা পড়লে সেটি সংশোধন করে আবার পরীক্ষা চালাতে হচ্ছে। এরপর পরীক্ষার বিস্তারিত ফল বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ফলাফল পর্যালোচনা করে সন্তুষ্ট হলেই পরবর্তী ধাপে যাওয়ার অনুমতি দেবে।
এ কারণে রূপপুরে উৎপাদন শুরুর নির্দিষ্ট দিন আগাম ঘোষণা করা কঠিন। কারণ সময়ের চেয়ে এখানে নিরাপত্তাই প্রধান বিষয়। কোনো পরীক্ষায় সমস্যা দেখা দিলে পুরো সময়সূচি আবার পিছিয়ে যেতে পারে।
সেপ্টেম্বরে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট সরবরাহের প্রস্তুতি
সব পরীক্ষা পরিকল্পনামতো এগোলে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রথম উৎপাদন একক থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় সঞ্চালনব্যবস্থায় দেওয়া হতে পারে। প্রথম দিকে কেন্দ্রটি খুব কম ক্ষমতায় চালানো হবে। এরপর ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরাসরি পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন শুরু করা হয় না। প্রথমে কম শক্তিতে চুল্লির আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়। এরপর নির্দিষ্ট ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে প্রতিটি স্তরে যন্ত্রপাতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সঞ্চালনব্যবস্থার সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়।
রূপপুরের প্রথম উৎপাদন এককের ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। তবে পরীক্ষামূলক পর্যায়ে শুরুতেই পুরো ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেওয়া হবে না। প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট দিয়ে শুরু করে পরিস্থিতি অনুযায়ী ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়ানো হবে।
পরীক্ষামূলক উৎপাদনের সময়েও অসংখ্য পরীক্ষা চলবে। কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ বের হওয়ার পর টারবাইন, উৎপাদক যন্ত্র, চুল্লির তাপমাত্রা, বিদ্যুতের মান এবং জাতীয় সঞ্চালনব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া যাচাই করা হবে। এসব পরীক্ষায় সন্তোষজনক ফল পাওয়ার পরই বাণিজ্যিক উৎপাদনের অনুমোদন মিলবে।
ডিসেম্বরের লক্ষ্য বাস্তবসম্মত কি না
রূপপুর কর্তৃপক্ষ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, এ লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হতে পারে।
পরীক্ষামূলক উৎপাদন ৭ থেকে ৮ মাস চললে ডিসেম্বরের মধ্যে সব ধাপ শেষ করার সুযোগ খুব কম। কারণ সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষামূলক সরবরাহ শুরু হলেও ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় থাকবে মাত্র কয়েক মাস। এই সময়ের মধ্যে উৎপাদনের বিভিন্ন স্তর, নিরাপত্তা পরীক্ষা, সঞ্চালনব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় এবং নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন শেষ করা সহজ হবে না।
অবশ্য পরীক্ষাগুলো দ্রুত ও সফলভাবে শেষ হলে কিছু কার্যক্রম পাশাপাশি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তবু পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষেত্রে দ্রুততার চেয়ে নির্ভুলতার গুরুত্ব বেশি। একটি ছোট ত্রুটিও ভবিষ্যতে বড় নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সুতরাং আগামী ডিসেম্বরকে একটি লক্ষ্য হিসেবে ধরা হলেও আগামী বছর প্রথম উৎপাদন একক থেকে পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভাবনাই বর্তমানে বেশি বাস্তবসম্মত বলে মনে হচ্ছে।
দেশের সবচেয়ে বড় একক প্রকল্প
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক উন্নয়ন প্রকল্প। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড।
পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি উৎপাদন একক নির্মাণ করা হচ্ছে। দুটি একক পূর্ণভাবে চালু হলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদনক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। নির্মাণকাজের দায়িত্বে রয়েছে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বড় সুবিধা হলো এটি দিন-রাত প্রায় সমান হারে বিদ্যুৎ দিতে পারে। সৌর বা বায়ুভিত্তিক বিদ্যুতের মতো এটি আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল নয়। আবার গ্যাস, কয়লা বা তেলভিত্তিক কেন্দ্রের মতো প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহেরও প্রয়োজন হয় না।
তবে একটি পারমাণবিক কেন্দ্র নিরাপদে চালাতে দক্ষ জনবল, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। ফলে শুধু কেন্দ্র নির্মাণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; পুরো পরিচালনাকালজুড়ে কঠোর নজরদারি বজায় রাখতে হয়।
দেড় বছর পরপর নতুন জ্বালানি
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২৪ ঘণ্টা প্রায় সমান হারে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। কেন্দ্রটির প্রতিটি উৎপাদন এককে প্রতি দেড় বছর পরপর নতুন পারমাণবিক জ্বালানি দিতে হবে।
জ্বালানি পরিবর্তনের সময় পুরোনো জ্বালানি বের করা, নতুন জ্বালানি প্রবেশ করানো এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে। এসব কাজের জন্য একটি উৎপাদন একক সর্বোচ্চ দুই মাস বন্ধ থাকতে পারে।
রূপপুরে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান টিভিএল। প্রথম তিন বছরের জ্বালানির খরচ কেন্দ্র নির্মাণের মূল চুক্তির মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রথম পর্যায়ের প্রয়োজনীয় জ্বালানি ইতিমধ্যে দেশে এসেছে।
প্রথম তিন বছরের জ্বালানি শেষ হলে চুক্তি অনুযায়ী টিভিএল নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ করবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের পুরো পরিচালনাকালে জ্বালানি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে। তবে বাংলাদেশ চাইলে যেকোনো সময় এই চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখে।
জ্বালানির দাম চুক্তিতে নির্দিষ্ট অঙ্কে লেখা নেই। এর পরিবর্তে একটি মূল্যনির্ধারণ সূত্র রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক সাময়িকীতে পারমাণবিক জ্বালানির যে বাজারমূল্য প্রকাশ করা হয়, সেই মূল্য বিবেচনায় নিয়ে চুক্তির সূত্র অনুসারে দাম নির্ধারিত হবে।
২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে পারমাণবিক জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও যাতে বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়ে, সে জন্য চুক্তিতে জ্বালানির দামের একটি সর্বোচ্চ সীমা রাখা হয়েছে।
ব্যবহৃত জ্বালানি ও তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো ব্যবহৃত জ্বালানি এবং তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। চুল্লি থেকে বের করার পরও ব্যবহৃত জ্বালানির মধ্যে ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে যায়। এ কারণে এটি সাধারণ বর্জ্যের মতো ফেলে দেওয়া সম্ভব নয়।
বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহৃত জ্বালানি রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তা প্রক্রিয়াজাত করার পর ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয় উপাদান মাটির প্রায় ৪০০ মিটার নিচে সংরক্ষণ করা হবে।
ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি ও সংশ্লিষ্ট বর্জ্য রাশিয়ায় নেওয়ার বিষয়ে ২০১৭ সালের ৩০ আগস্ট মস্কোতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে চুক্তি হয়। ওই চুক্তিতে রাশিয়া বর্জ্য গ্রহণে সম্মত হয়েছে।
তবে বর্জ্য পরিবহনের বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। চুল্লি থেকে জ্বালানি বের করার সঙ্গে সঙ্গে তা পাঠানো যায় না। প্রথমে বিশেষ ব্যবস্থায় রেখে জ্বালানিকে শীতল করতে হয়। প্রয়োজন হলে ব্যবহৃত জ্বালানি রূপপুরে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত নিরাপদে রাখা যাবে।
এই দীর্ঘ সময় থাকার কারণে জাহাজ ভাড়া, পরিবহন ব্যয় এবং অন্যান্য খরচ আগাম নির্ধারণ না করে পরে চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, অনেক আগে ব্যয় নির্ধারণ করা হলে বাস্তব বাজারমূল্যের সঙ্গে পার্থক্য তৈরি হতে পারে এবং এতে বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে।
প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ২৬ হাজার কোটি টাকা
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের খরচ ২৬ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০১১ সালে বাংলাদেশ সরকার ও রাশান ফেডারেশন সরকারের মধ্যে আন্তরাষ্ট্রীয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর ভিত্তিতে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক প্রতিষ্ঠান রোসাটমের প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের মধ্যে কেন্দ্র নির্মাণের মূল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
প্রকল্পের মেয়াদ প্রথমে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। পরে সময়সীমা দুই বছর বাড়াতে ২০২৫ সালের ২০ জুন একটি অতিরিক্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আরও ছয় মাস সময় বাড়িয়ে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঠিকাদারের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পের সময় বাড়লেও নির্মাণব্যয় বাড়ানোর সুযোগ নেই। কিন্তু ডলারের বিনিময়মূল্য বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় মুদ্রায় প্রকল্পের মোট ব্যয় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রকল্পের মূল ব্যয়ের বড় অংশ বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হয়। ফলে ডলারের দাম বাড়লে একই পরিমাণ বৈদেশিক দেনা পরিশোধে বেশি টাকা প্রয়োজন হয়। এ কারণেই চুক্তির মূল্য অপরিবর্তিত থাকলেও বাংলাদেশি টাকায় ব্যয় বেড়েছে।
সাড়ে তিন বছরের বিলম্বের আর্থিক প্রভাব
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ পরিকল্পনার তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন বছর পিছিয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনে জটিলতা, যন্ত্রপাতি দেশে আনার সমস্যা, বিদেশি বিশেষজ্ঞদের যাতায়াতে বাধা এবং ডলার-সংকটের কারণে বিল পরিশোধে বিলম্ব—সব মিলিয়ে কাজের গতি কমেছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, রূপপুরের একটি উৎপাদন একক চালু থাকলে বছরে প্রায় ১০০ কোটি ডলারের জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় করা সম্ভব হতো। সে হিসাবে উৎপাদন শুরুতে সাড়ে তিন বছরের বিলম্ব দেশের জন্য বড় ধরনের সুযোগব্যয় তৈরি করেছে।
তবে এই হিসাবকে শুধু সরাসরি ক্ষতি হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। কারণ কেন্দ্র চালু হওয়ার পরও জ্বালানি, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, ঋণ পরিশোধ, নিরাপত্তা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যয় থাকবে। তবু আমদানি করা তেল, তরলীকৃত গ্যাস এবং কয়লার ওপর নির্ভরতা কমাতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক বিদ্যুৎ তুলনামূলক স্থিতিশীল উৎপাদনব্যয় নিশ্চিত করতে পারে।
বিদ্যুতের দাম এখনো নির্ধারিত নয়
রূপপুর থেকে উৎপাদিত প্রতি একক বিদ্যুতের দাম এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হওয়ার পর প্রকৃত পরিচালন ব্যয়, জ্বালানি ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খরচ বিবেচনা করে বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হবে।
এরপর বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি স্বাক্ষর করবে রূপপুর কর্তৃপক্ষ।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রাথমিক ব্যয় অনেক বেশি। তবে এর জ্বালানি ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম। একটি কেন্দ্র দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলে উচ্চ নির্মাণব্যয় বহু বছরের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়।
রূপপুরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, দেশের অন্যান্য জ্বালানি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের তুলনায় পারমাণবিক বিদ্যুতের দাম বেশি হবে না। তবে বাস্তব মূল্য নির্ধারণের সময় শুধু জ্বালানি ব্যয় নয়, ঋণ পরিশোধ, পরিচালন ব্যয়, নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যতে কেন্দ্র বন্ধ করার ব্যয়ও বিবেচনা করতে হবে।
তাই পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হওয়ার আগে প্রতি একক বিদ্যুতের সঠিক মূল্য বলা কঠিন।
জাতীয় সঞ্চালনব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত
রূপপুর থেকে বড় পরিমাণ বিদ্যুৎ জাতীয় সঞ্চালনব্যবস্থায় যুক্ত করা একটি বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। একটি উৎপাদন একক পূর্ণ ক্ষমতায় চললে একসঙ্গে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। কোনো কারণে কেন্দ্রটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে একই মুহূর্তে সঞ্চালনব্যবস্থায় বড় ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
এই ঝুঁকি বিবেচনায় একটি রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ২০১৬ সালে সমন্বিত সঞ্চালনব্যবস্থা ব্যবস্থাপনা সমীক্ষা পরিচালনা করে পাওয়ার গ্রিড। ওই সমীক্ষার সুপারিশ অনুসারে সঞ্চালনব্যবস্থার উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পাওয়ার গ্রিডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ খান জানিয়েছেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ গ্রহণের জন্য জাতীয় সঞ্চালনব্যবস্থা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
তবে তাৎক্ষণিক বিকল্প উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে কিছু উদ্বেগ রয়েছে। এর অর্থ হলো, রূপপুরের উৎপাদন হঠাৎ বন্ধ হলে অন্য কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রকে সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন বাড়িয়ে ঘাটতি পূরণ করতে হবে। এ ধরনের কেন্দ্র উৎপাদন না করলেও সব সময় চালুর উপযোগী অবস্থায় রাখতে হয়।
গ্যাসের সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড প্রয়োজনীয় বিকল্প উৎপাদন সক্ষমতা সব সময় নিশ্চিত করতে পারছে না। রূপপুর পূর্ণ ক্ষমতায় চালু হওয়ার পর কোনো কারণে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন হঠাৎ বন্ধ হলে জাতীয় সঞ্চালনব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
তবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিমের মতে, প্রথম দিকে রূপপুর খুব কম হারে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে বিকল্প উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে বড় সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই।
পরীক্ষামূলক উৎপাদনের সময়ে ধাপে ধাপে ক্ষমতা বাড়ানোর ফলে জাতীয় সঞ্চালনব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ পাওয়া যাবে।
উদ্বোধনে যুক্ত হতে পারেন বাংলাদেশ ও রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় সঞ্চালনব্যবস্থায় রূপপুরের বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার সময় রাষ্ট্রীয়ভাবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী যুক্ত থাকতে পারেন।
রূপপুরের চুল্লিতে পারমাণবিক জ্বালানি প্রবেশ করানোর সময় দুই দেশের সরকারপ্রধানের কেউ সরাসরি যুক্ত ছিলেন না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউ কেউ মনে করেন, এত বড় ও সংবেদনশীল প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে সরকারপ্রধানের সম্পৃক্ততা থাকলে প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা ও সমন্বয় আরও বাড়ে।
তবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময়সূচি পুরোপুরি নির্ভর করবে পরীক্ষার অগ্রগতি এবং নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর।
কেন তাড়াহুড়া বিপজ্জনক হতে পারে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শফিকুল ইসলামের মতে, সরকারের পক্ষ থেকে উৎপাদনের নির্দিষ্ট সময় আগাম ঘোষণা করা উচিত নয়। কারণ পুরো প্রক্রিয়াটি এখন নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক নজরদারির মধ্যে রয়েছে।
নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ যখন নিশ্চিত হবে যে কেন্দ্রটি নিরাপদে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত, তখনই উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া উচিত। কোনো একটি পরীক্ষায় কেন্দ্রটি উত্তীর্ণ না হলে পুরো কার্যক্রম আবার পিছিয়ে যেতে পারে।
রূপপুর বর্তমানে সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও জটিল সময় পার করছে। নির্মাণকাজের সময় যেসব ত্রুটি চোখ এড়িয়ে যেতে পারে, চালুর আগের পরীক্ষায় সেগুলো শনাক্ত করা জরুরি। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তামান বজায় রেখে প্রতিটি ত্রুটি যাচাই করতে হবে।
প্রকল্প চালু হতে ইতিমধ্যে অনেক দেরি হয়েছে। কিন্তু আগের বিলম্ব পুষিয়ে নিতে গিয়ে পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত করা বা দ্রুত অনুমোদন দেওয়া আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আয়ু কয়েক দশক। তাই কয়েক মাস আগে চালু করার চেয়ে নিরাপদ ও নির্ভুলভাবে চালু করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সামনে সবচেয়ে বড় তিন চ্যালেঞ্জ
রূপপুরের সামনে এখন মূলত তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
প্রথমত, বাকি ১৮টি জটিল পরীক্ষা সফলভাবে শেষ করা এবং প্রতিটি পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়া।
দ্বিতীয়ত, পরীক্ষামূলক উৎপাদনের সময় কেন্দ্রের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে জাতীয় সঞ্চালনব্যবস্থার সঙ্গে নিরাপদ সমন্বয় নিশ্চিত করা।
তৃতীয়ত, পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন শুরুর আগে পর্যাপ্ত তাৎক্ষণিক বিকল্প উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা, যাতে রূপপুর হঠাৎ বন্ধ হলেও জাতীয় সঞ্চালনব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা যায়।
এর পাশাপাশি বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ, ব্যবহৃত জ্বালানি পরিবহনের বাণিজ্যিক ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি দক্ষ জনবল গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে নতুন অধ্যায়
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ খাত গ্যাস, কয়লা, তেল এবং আমদানি করা বিদ্যুতের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল। রূপপুর থেকে নিয়মিত ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেলে জ্বালানি আমদানির চাপ কিছুটা কমতে পারে।
একই সঙ্গে এটি দেশের প্রকৌশল, পারমাণবিক বিজ্ঞান, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং উচ্চপ্রযুক্তিভিত্তিক জনবল তৈরিতে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
তবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ শুধু সাফল্যের গল্প নয়; এর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্বও জড়িত। কেন্দ্রটি নিরাপদে পরিচালনা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, দক্ষ কর্মী ধরে রাখা, তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতি কয়েক দশক ধরে নিশ্চিত করতে হবে।
আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রূপপুর প্রকল্প একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক অতিক্রম করবে। তবে সেটি বাণিজ্যিক উৎপাদনের শেষ ধাপ নয়; বরং দীর্ঘ পরীক্ষামূলক যাত্রার শুরু।
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য রয়েছে। কিন্তু বাকি পরীক্ষা, নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং ৭ থেকে ৮ মাসের সম্ভাব্য পরীক্ষামূলক উৎপাদন বিবেচনায় আগামী বছর পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়াই বেশি বাস্তবসম্মত বলে মনে হচ্ছে।
রূপপুরের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দ্রুত বিদ্যুৎ পাওয়া নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা। কারণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে একটি ভুলের মূল্য শুধু অর্থ দিয়ে হিসাব করা যায় না।

