ব্যবসা ও ভ্রমণ ভিসার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে ভিসা বন্ড কর্মসূচিকে স্থায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে। আগামী ৩ আগস্ট, সোমবার থেকে এই নীতি স্থায়ীভাবে কার্যকর হবে।
শুক্রবার ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট পরীক্ষামূলকভাবে ১২ মাসের জন্য এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল। সেই সময় সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ ছিল ২০ হাজার ডলার, যা এখন স্থায়ী নীতির অংশ হয়ে গেল।
নতুন বিধান অনুযায়ী, ব্যবসা ও ভ্রমণ শ্রেণির ভিসার আবেদনকারীদের মধ্যে যাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি বলে মনে হবে, তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার, ১৫ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত নেওয়া যেতে পারে। কোন আবেদনকারীকে কত টাকা বন্ড জমা দিতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তারাই নেবেন।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে এই কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে ৪৫ হাজার ৪৮৮ জন ভিসাধারী অনুমোদিত সময়সীমার বাইরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছিলেন। তবে ভিসা বন্ড চালুর পর চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১০ মাসে এই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৫০ জনে।
একই সময়ে ভিসা প্রদানের সংখ্যাও ৮৩ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে যেসব আবেদনকারী নির্ধারিত বন্ড জমা দিয়েছেন, তাদের সবাই ভিসা পেয়েছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশসহ ৫০টি দেশ ছিল। এর মধ্যে আফ্রিকার ৩০টি দেশও রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত এসব দেশের ক্ষেত্রে ভিসা বন্ডের বিধান বহাল থাকবে।
তবে তালিকাটি স্থায়ী নয়। নীতি কার্যকর হওয়ার ১৫ দিন পর নতুন করে দেশগুলোর তালিকা পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে নতুন দেশ যুক্ত করা হতে পারে, আবার কোনো দেশ তালিকা থেকে বাদও যেতে পারে। প্রশাসন সময়ে সময়ে এই তালিকা সংশোধন করবে। কোনো দেশ নতুন করে তালিকায় যুক্ত হলে তা কার্যকর হওয়ার আগে ১৫ দিনের সময় পাবে। আর কোনো দেশ তালিকা থেকে বাদ পড়লে সেই সিদ্ধান্ত সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন এবং অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান কমাতেই এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের মতে, ভিসা বন্ড আবেদনকারীদের সময়মতো নিজ দেশে ফিরে যেতে উৎসাহিত করবে এবং অভিবাসন আইন বাস্তবায়ন সহজ করবে।
তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত ভিন্ন। তাদের মতে, অতিরিক্ত আর্থিক জামানতের বাধ্যবাধকতা বৈধ ভ্রমণকারীদের জন্য নতুন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের আবেদনকারীদের জন্য এত বড় অঙ্কের অর্থ জমা দেওয়া অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোরও সমালোচনা রয়েছে। তাদের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে বৈধ ভ্রমণ ও অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে এই ধরনের পদক্ষেপ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বরাবরের মতোই দাবি করছে, এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা এবং অভিবাসন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। প্রশাসনের মতে, বৈধ ভিসা ব্যবস্থাকে আরও দায়বদ্ধ ও নিয়ন্ত্রিত করতেই এই নীতি প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে ভিসা বন্ড কর্মসূচিকে স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ কর্মসূচির আওতায় থাকা দেশগুলোর ব্যবসা ও ভ্রমণ ভিসা আবেদনকারীদের জন্য নতুন এই নিয়ম আগামী দিনে ভিসা প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

