দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের বাস্তবতা অস্বীকার না করে সরকার তা মোকাবিলায় ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, সংকটের দায় এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর কার্যকর সমাধান বের করতেই সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে জুলাই আন্দোলনের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের জ্বালানি খাত দুর্বল অবস্থায় পৌঁছেছে। ফলে এই খাতকে আবারও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করতে সময়ের প্রয়োজন। তিনি স্বীকার করেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে সাধারণ মানুষ নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়ছেন। তবে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকার নিজেদের সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ কাজে লাগিয়ে ধারাবাহিক উদ্যোগ নিচ্ছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মিয়ানমার থেকে গ্যাস আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়াও এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। সরকারের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে গ্যাস সংকট অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের সামগ্রিক অবস্থা অত্যন্ত কঠিন ছিল। অর্থনীতি ছিল চাপের মুখে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে সরকার একদিকে সংকট মোকাবিলা করছে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে।
জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ছিল না; বরং দেশের সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা একটি গণআন্দোলন। এই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার উদ্যোগ নিয়েছে।
বক্তব্যে তিনি বিএনপি ঘোষিত ৩১ দফাকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি রূপরেখা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে এই কর্মপরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে এবং দেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব সরকারকে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট বর্তমানে দেশের অর্থনীতি, শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে সংকটের বাস্তবতা স্বীকার করে সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। তবে ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যায় এবং সাধারণ মানুষ কবে এর সুফল পেতে শুরু করবে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু নতুন উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। এর পাশাপাশি দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান জোরদার, সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি, অপচয় কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বাস্তবায়নও সমানভাবে প্রয়োজন। এসব পদক্ষেপ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি খাত আরও স্থিতিশীল হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

