উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য প্রস্তাবিত এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে চীনের কাছে নতুন করে চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্রস্তাবিত এই হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত স্থানটি প্রাথমিক পরিদর্শনে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়েছে। তবে প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ এগিয়ে নিতে এখন প্রয়োজন চীনা কারিগরি প্রতিনিধি দলের আরেকটি বিস্তারিত সমীক্ষা সফর, যার সময়সূচি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
জানা গেছে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে তারা চীনা দূতাবাসের কাছ থেকে পরবর্তী প্রতিনিধি দলের সফরের নির্দিষ্ট সময়সূচি জেনে নেয়। গত ২৯ জুলাই স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একজন উপসচিবের স্বাক্ষরে পাঠানো এক চিঠিতে এই অনুরোধ করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের একটি সরকারি উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থার কারিগরি প্রতিনিধি দল গত মে মাসের শুরুর দিকে প্রায় দশ দিনের বাংলাদেশ সফরে আসে। ওই সফরকালে দলটি রংপুর ঘুরে দেখার পাশাপাশি নীলফামারীতে প্রস্তাবিত হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত জায়গাও সরেজমিনে পরিদর্শন করে।
পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় চীনা প্রতিনিধি দলের প্রধান জানান, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহসহ প্রয়োজনীয় প্রাথমিক অবকাঠামো আগে থেকেই থাকায় প্রস্তাবিত জায়গাটি হাসপাতাল নির্মাণের জন্য বেশ উপযোগী।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিনিধি দলের এই পরিদর্শন প্রতিবেদন এখন চীনা দূতাবাসের কাছে পাঠানো হবে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তৈরি হবে বিনিয়োগ প্রকল্প দলিল, যেখানে নির্ধারণ করা হবে প্রকল্পের সামগ্রিক ব্যয় ও কার্যপরিধি। এই দলিল চূড়ান্ত করার আগে চীনের আরেকটি কারিগরি দলের বাংলাদেশে এসে আরও বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাই করার কথা রয়েছে।
তবে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীনা দূতাবাস কিংবা অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত ওই প্রতিনিধি দলের সফরের কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সূচি জানায়নি। প্রকল্পের পরবর্তী কার্যক্রম যাতে বিলম্বিত না হয়, সে জন্যই দূতাবাসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে সময়সূচি নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জানা গেছে, সৈয়দপুর-নীলফামারী সড়ক-সংলগ্ন চড়াইখোলা ইউনিয়নে একটি স্থানীয় টেক্সটাইল মিলের পাশে প্রায় ২৫ একর জমির ওপর নির্মিত হবে এই হাসপাতাল, যা চীনের অনুদান সহায়তায় বাস্তবায়িত হওয়ার কথা। স্থানীয় গণপূর্ত বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে প্রায় ২৫ থেকে ২৮ একর জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় প্রকল্পটি শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন পেলেও চীনের অর্থায়নের বিষয়টি এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত না হওয়ায় প্রকল্পের সম্পূর্ণ অনুমোদন প্রক্রিয়া এখনো ঝুলে রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসপাতালটি চালু হলে সেখানে ক্যানসার চিকিৎসা, স্নায়ুরোগ, হৃদরোগ ও কিডনি রোগের বিশেষায়িত সেবার পাশাপাশি নবজাতক ও শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা ইউনিট থাকবে। এছাড়া প্রায় ২০০ যন্ত্রবিশিষ্ট একটি ডায়ালাইসিস কেন্দ্র এবং আধুনিক রোগ নির্ণয় ব্যবস্থাও এই হাসপাতালের অংশ হবে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এই হাসপাতাল চালু হলে একদিকে যেমন উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের চিকিৎসা ব্যয় কমবে, তেমনি রাজধানীর হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপও অনেকটা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে নীলফামারীর একজন সিভিল সার্জন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের আর চিকিৎসার জন্য রংপুর কিংবা ঢাকায় ছুটে যেতে হবে না। তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালের সুফল শুধু নীলফামারীর মানুষই নয়, বরং পঞ্চগড় ও গাইবান্ধার মতো আশপাশের জেলার বাসিন্দারাও পাবেন।

