সড়ক সংস্কারের খবরে যে স্বস্তির আশা করেছিলেন স্থানীয়রা, তা এখন পরিণত হয়েছে নতুন এক দুর্ভোগে। আগে যে সড়কে মাত্র তিনটি জায়গায় খানাখন্দ ছিল, এখন পুরো চার কিলোমিটার সড়কজুড়েই রয়েছে কাদা, গর্ত ও জমে থাকা পানি। বর্ষার বৃষ্টিতে এই দুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের জামালপুর বাজার থেকে দোলনবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত এই প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য প্রতিদিনের এক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই বোঝার উপায় থাকে না কোথায় সড়ক আর কোথায় গর্ত। মোটরসাইকেলের চাকা হঠাৎ গর্তে আটকে যাচ্ছে, অটোরিকশা হেলে পড়ছে, আর পথচারীরা কাদা এড়াতে গিয়ে প্রায়ই বিপদে পড়ছেন। ঝুঁকি মাথায় নিয়েই প্রতিদিন এই পথে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, “রাস্তা আগেই ভালা আচিল, খালি খালি খুইদ্দা থুইছে ঠিকাদার”।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা যায়, জামালপুর বাজার-সংলগ্ন একটি চাতালের সামনে, একটি বাড়ির কাছাকাছি এবং স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সামনের অংশে দীর্ঘদিন ধরেই খানাখন্দের সমস্যা ছিল। এই দুর্ভোগ লাঘবে চলতি বছরের মে মাসে সড়ক উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন স্থানীয় একজন সংসদ সদস্য।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে এই প্রকল্প, যার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাজধানীভিত্তিক একটি নির্মাণ কোম্পানি। প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির উন্নয়নকাজের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, কাজ শুরুর পর পুরো সড়কের পুরনো পিচ তুলে ফেলা হলেও এরপর কাজের গতি প্রায় থেমে গেছে। কোথাও কিছু ইট-বালুর স্তূপ দেখা গেলেও অধিকাংশ স্থানেই নেই কোনো শ্রমিকের উপস্থিতি। টানা বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, যার ফলে রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনকে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।
স্থানীয় দুজন বাসিন্দা এই দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বলেন, আগে সড়কের অবস্থা মোটামুটি ভালোই ছিল, কিন্তু ঠিকাদার শুধু খুঁড়েই রেখে দিয়েছেন কাজ শেষ না করে। তাদের ভাষ্য, আগে গোটা সড়কের মাত্র তিনটি জায়গায় সমস্যা ছিল, এখন পুরো সড়কই সমস্যাযুক্ত হয়ে পড়েছে। তবে ঠিকাদার দ্রুত কাজ শেষ করলে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, সড়কটির উন্নয়নকাজের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে এবং সংসদ সদস্য নিজেই এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেছেন।
কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জানান, মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির নম্বর দেওয়া হবে এবং তিনিই বিস্তারিত জানাবেন। তবে সেই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে তিনি একই কথার পুনরাবৃত্তি করে ফোন কেটে দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জানান, প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিলম্ব হলেও দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে ইতিমধ্যে দুই দফায় লিখিত চিঠিও পাঠানো হয়েছে।
গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের একজন নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, জনগণের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করেই সড়কের কাজ পরিচালনা করতে হবে। তিনি জানান, সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট সড়কের প্রকৃত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবেন এবং কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তার নজরে রয়েছে এবং জনদুর্ভোগ যাতে দীর্ঘস্থায়ী না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সঙ্গে দ্রুত বৈঠক করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাসের গণ্ডি পেরিয়ে দ্রুতই এই সংস্কারকাজ শেষ হবে, কারণ দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় এই সড়কই তাদের একমাত্র ভরসা।

