বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের অবস্থান গত দুই বছরে আগের তুলনায় জটিল হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছে বিবিসি বাংলার একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন। দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার পর দিল্লি তাকে আশ্রয় দিয়েছিল। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তার অবস্থান এখন ভারতের জন্য কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বাড়তি চাপ তৈরি করছে কি না, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।
বিবিসি বাংলার বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে নয়াদিল্লির অস্বস্তি ধীরে ধীরে বাড়ছে। এমনকি তিনি ভারতের জন্য ক্রমেই একটি ‘দায়’ হয়ে উঠছেন কি না, তা নিয়েও দিল্লির পর্যবেক্ষকদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরের শাসনের অবসান হওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। তিনি ভারতের গাজিয়াবাদের হিন্দন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেন। বিবিসির বর্ণনা অনুযায়ী, সেদিন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল তাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। একজন বিপদগ্রস্ত ঘনিষ্ঠ বিদেশি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ভারত সেদিন যে উষ্ণতা দেখিয়েছিল, দুই বছর পর সেই সম্পর্কের বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গত দুই বছর ধরে শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়া হলেও ভারত এখনো তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেয়নি। আর এই অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে বলে বিবিসির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
৫ আগস্টের বক্তব্য ঘিরে নতুন অস্বস্তি
শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয় ৫ আগস্টের একটি সরাসরি অনলাইন সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে। বাংলাদেশের ৫ আগস্টের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে দিল্লি থেকে অনলাইনে বক্তব্য দেন তিনি।
বিবিসি বাংলার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শেখ হাসিনার এই উপস্থিতি বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ঘটনার সঙ্গে নিজেদের কোনো সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে। তবে বাংলাদেশে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, ভারতের অনুমতি বা অন্তত নীরব সম্মতি ছাড়া এ ধরনের প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করা সম্ভব ছিল না।
এই জায়গাটিই দুই দেশের পারস্পরিক অবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। কারণ শেখ হাসিনা শুধু ভারতে অবস্থান করছেন না, সেখান থেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। ফলে ঢাকার কাছে বিষয়টি কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ের প্রশ্ন না থেকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়েও পরিণত হয়েছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা শেখ হাসিনার আইনি অবস্থান
বিবিসির বিশ্লেষণে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় অস্বস্তির কারণ হিসেবে শেখ হাসিনার বর্তমান আইনি অবস্থার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের একটি আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং বাংলাদেশ সরকার তার প্রত্যাবর্তন চেয়ে আসছে। কিন্তু ভারত এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো কার্যকর অবস্থান নেয়নি।
এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা ভারতের মাটিতে অবস্থান করায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর তার প্রভাব পড়ছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ—দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়েই শেখ হাসিনার অবস্থান একটি পরোক্ষ প্রভাবক হয়ে উঠছে বলে বিবিসি মনে করছে।
অর্থাৎ, দিল্লি যদি শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে যায়, তাহলে ঢাকার সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে একটি রাজনৈতিক বাধা থেকেই যাচ্ছে। আবার তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলে ভারতের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান এবং অভ্যন্তরীণ কূটনৈতিক হিসাবেও বড় পরিবর্তন আনতে হবে।
অজিত দোভাল থেকে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হাতে দায়িত্ব
ভারতে আশ্রয় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি ব্যক্তিদের সাধারণত দেশটির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগের মধ্যে রাখা হয়। বিবিসির বিশ্লেষণে তিব্বতের ধর্মীয় নেতা দালাই লামার উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে।
শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও শুরুতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সরাসরি এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে বিবিসি জানিয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে দায়িত্বের ধরন বদলেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
বিবিসির তথ্যমতে, পরে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব ভারতের গোয়েন্দা কাঠামোর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের হাতে যায়। প্রথমে গোয়েন্দা ব্যুরোর প্রধান তপন ডেকার নাম এবং তার অবসরের পর বর্তমান প্রধান মহেশ দীক্ষিতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিবর্তনকে ভারতের কাছে শেখ হাসিনার গুরুত্ব কমে যাওয়ার একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। যদিও শুধু দায়িত্ব পরিবর্তনের ভিত্তিতে ভারতের নীতিগত অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়েও মতপার্থক্য
শেখ হাসিনা ভারতে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবার সক্রিয় করার ক্ষেত্রে ভারত সহযোগিতা করবে—এমন প্রত্যাশা তার ছিল বলে বিবিসির বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে।
তবে গত দুই বছরে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হলেও শেখ হাসিনা সেগুলো গ্রহণ করতে আগ্রহী ছিলেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি দলের নেতৃত্বে সীমিত বা সাময়িক পরিবর্তনের প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলে ভারতীয় সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে।
এই অবস্থান ভারতের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বিরক্তি তৈরি করেছে বলেও বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এখানে মূল বিষয়টি হলো, ভারত যদি বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের কোনো ভবিষ্যৎ দেখতে চায়, তাহলে দলটির নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক কৌশলে পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু শেখ হাসিনা নিজেই যদি নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন মেনে নিতে না চান, তাহলে দিল্লির জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
ফলে ভারতের সামনে একদিকে পুরোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতা—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
কেন ‘দায়’ হয়ে উঠছে বিষয়টি?
ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে বিপদে থাকা ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তি বা বিদেশি মিত্রকে আশ্রয় দেওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বিবিসিও এই বিষয়টি উল্লেখ করেছে। তাই শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়াটা ভারতের জন্য একেবারে অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়।
কিন্তু সমস্যা তৈরি হচ্ছে সময়ের সঙ্গে।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার ভারতে যাওয়ার সময় পরিস্থিতি ছিল একরকম। তখন বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তন ছিল তীব্র ও অস্থির। ভারতও সম্ভবত পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের হবে—এমন হিসাব করে থাকতে পারে।
দুই বছর পর সেই সমীকরণ আর আগের জায়গায় নেই।
বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা হয়েছে, ঢাকা তার প্রত্যাবর্তন চাইছে, আর তিনি ভারত থেকেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। ফলে তাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি এখন শুধু মানবিক বা নিরাপত্তার প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ভারতের জন্য একটি কূটনৈতিক হিসাবের অংশ হয়ে গেছে।
বিবিসির ভাষ্য অনুযায়ী, দিল্লির পর্যবেক্ষকদের কাছে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে এই ‘দায়’-এর বিষয়টি আরও বড় হয়ে উঠেছে। আঞ্চলিক রাজনীতি এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন জটিলতার কারণে নয়াদিল্লির অস্বস্তিও বাড়ছে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে এর প্রভাব কতটা?
শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কের একমাত্র সমস্যা নয়। তবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে বিশ্লেষণে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের সঙ্গে সীমান্ত, পানি, বাণিজ্য, যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার মতো বহু বিষয় জড়িত। এসব ক্ষেত্রে স্বাভাবিক কূটনৈতিক যোগাযোগ প্রয়োজন।
কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান সেই সম্পর্ককে জটিল করে তুলছে।
ঢাকার দৃষ্টিতে, একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতের রায় রয়েছে এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি রয়েছে। অন্যদিকে দিল্লি তাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। এই পার্থক্য দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট বাড়াতে পারে।
অন্যদিকে ভারতের জন্যও বিষয়টি সহজ নয়। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠালে তার রাজনৈতিক ও মানবিক পরিণতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা প্রশ্ন উঠতে পারে। আবার তাকে দীর্ঘদিন ভারতে রাখলে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে চাপ বাড়তে পারে।
অর্থাৎ দুই পথের যেকোনো একটিই ভারতের জন্য সহজ সমাধান নয়।
তৃতীয় কোনো দেশে যাওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায়
বিবিসির বিশ্লেষণের শেষ দিকে শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আরেকটি সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশে ফিরতে পারেন, অথবা ইউরোপ কিংবা আমেরিকার কোনো তৃতীয় দেশে যেতে পারেন—এমন সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
তবে বর্তমানে তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান ভারতের কোথায়, সেটিও প্রকাশ্যে নিশ্চিত নয়। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি দিল্লির কেন্দ্রস্থলে রয়েছেন, নাকি অন্য কোনো জায়গায় অবস্থান করছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
তার অবস্থান নিয়ে যতই গোপনীয়তা থাকুক, রাজনৈতিক বাস্তবতা কিন্তু ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। দুই বছর আগে যিনি ছিলেন ভারতের কাছে সংকটের সময়ে আশ্রয় নেওয়া একজন ঘনিষ্ঠ বিদেশি নেতা, এখন তার অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
সামনে ভারতের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত
শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসছে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে গত দুই বছরে পরিস্থিতি যে আগের তুলনায় জটিল হয়েছে, তা স্পষ্ট।
ভারতের সামনে এখন কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজন। একদিকে রয়েছে পুরোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক ও কূটনৈতিক প্রতিশ্রুতির বিষয়, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার প্রয়োজন। এর পাশাপাশি রয়েছে শেখ হাসিনার আইনি অবস্থান এবং তাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা।
সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এখন আর শুধু একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানকে আশ্রয় দেওয়ার ঘটনা নয়। এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত একটি বিষয়।
বিবিসির বিশ্লেষণ যে প্রশ্নটি সামনে এনেছে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—ভারত কি আগের মতোই শেখ হাসিনাকে দীর্ঘমেয়াদি আশ্রয় দিয়ে যাবে, নাকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার জন্য নতুন কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক পথ খুঁজবে?
বিবিসির ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা এখনো ভারতে সম্মানের সঙ্গে অবস্থান করছেন। কিন্তু তার সেখানে দীর্ঘদিন থাকার সম্ভাবনা আগের তুলনায় সংকুচিত হয়ে আসছে। আর যদি শেষ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশে ফিরতে পারেন কিংবা কোনো তৃতীয় দেশে চলে যান, তাহলে সেটি ভারতের জন্যও একটি বড় কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাতে পারে।

