বাংলাদেশে আল-কায়েদার সাংগঠনিক তৎপরতা নিয়ে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দিচ্ছে না সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ সোমবার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা স্পষ্ট করে বলেন।
মন্ত্রী জানান, তিনি নিজে প্রতিবেদনটি এখনো পড়েননি, তবে সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়, ভারতীয় উপমহাদেশ-কেন্দ্রিক আল-কায়েদার একটি শাখা সংগঠন বাংলাদেশকে ব্যবহার করে নতুন সন্ত্রাসী সেল গঠনের চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন মাত্র, প্রতিবেদন পড়েননি। তাঁর ভাষায়, ওই প্রতিবেদনে হয়তো কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে, তবে না দেখে এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কিছু বলা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
প্রতিবেদনটি সরকার আমলে নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাবে তিনি বলেন, সরকার এটি আমলে নিচ্ছে না। সংবাদমাধ্যম সূত্রে যতটুকু জেনেছেন তার ভিত্তিতে তিনি জানান, প্রতিবেদনে মূলত একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা অনুমাননির্ভরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর মন্তব্য, নিশ্চিত তথ্যের বদলে নিছক অনুমানের ভিত্তিতে তৈরি কোনো প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করা সরকারের পক্ষে সমীচীন নয়।
সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ভবিষ্যতে অন্য কোনো মন্ত্রণালয়ে দেখা যেতে পারে বলে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত জবাবে বলেন, তিনিও এ ধরনের গুঞ্জনের কথা শুনেছেন—তবে এর বেশি কিছু স্পষ্ট করেননি।
সাক্ষাৎকারের শুরুর দিকে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্ন খাতে অর্জিত সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার সতর্কবার্তাকে সরাসরি অগ্রাহ্য করার পরিবর্তে বিস্তারিত পর্যালোচনার মাধ্যমে জবাব দেওয়া সরকারের জন্য কূটনৈতিকভাবে অধিকতর সমীচীন হতে পারত। অন্যদিকে সরকারপক্ষের যুক্তি, নিশ্চিত প্রমাণ ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতিতে পরিবর্তন আনা যুক্তিসংগত নয়। বিষয়টি নিয়ে আগামী দিনে আরও আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

