নির্বাচিত হতে যাওয়া দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতিকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা হাফিজ উদ্দিন আহমদ নাকি স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শপথ পড়াবেন—এ নিয়ে দ্বিধায় থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো মতামতে আইন মন্ত্রণালয় সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর যথাযথ কর্তৃপক্ষ বলে মত দিয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উভয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত ১৩ আগস্ট আইন মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো মতামতে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী বিষয়টির ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নির্বাচিত হতে যাওয়া রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান আগামী শুক্রবার বঙ্গভবনের দরবার হলে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির শপথ বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হলেও অনুষ্ঠান আয়োজনের সার্বিক দায়িত্ব পালন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতিসহ রাষ্ট্র ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সম্মানিত ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে না পারার পরিপ্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত চাইলে সংবিধান অনুযায়ী মত দেওয়া হয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয় তাদের মতামতে বলেছে, ‘বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করায়, সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুসারে স্পিকারের যাবতীয় দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকার পালন করছেন।’
মতামতে আরও বলা হয়েছে, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংবিধানের ৭৪(৩) অনুযায়ী ডেপুটি স্পীকার যেহেতু স্পিকারের সব দায়িত্ব পালন করে থাকেন, সে হিসাবে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পাঠ করানোর জন্যও তিনি (ডেপুটি স্পিকার) সাংবিধানিকভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ।’
অন্যদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ নিয়ে এক ধরনের অস্পষ্টতা ছিল। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সুরাহা করতে সাংবিধানিক স্পষ্টীকরণের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে মত চাওয়া হলে তাদের পাঠানো ‘স্পষ্টীকরণে’ বর্তমানে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নতুন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন—এমন মত দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
গত ২৪ জুলাই নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। সূত্র: ডেইলি স্টার

