এসএসসি পাসের আনন্দে মিষ্টিমুখ করার বদলে সেই টাকা বন্ধুর অসুস্থ মায়ের চিকিৎসায় তুলে দিয়েছিল একদল কিশোর শিক্ষার্থী। তাদের এই ছোট্ট মানবিক উদ্যোগ এখন রূপ নিয়েছে বড় এক সহায়তায়— সহপাঠীদের পর এবার নাঈম সিকদার নামের ওই শিক্ষার্থীর মায়ের চিকিৎসার জন্য দুই লাখ টাকা সহায়তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
আজ শনিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কালিদাস গ্রামে অবস্থিত একটি বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই অর্থসহায়তা তুলে দেওয়া হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য তথা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী নাঈমের দাদার হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই সহায়তা হস্তান্তর করেন।
জানা গেছে, নাঈমের মা দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে সিরাজগঞ্জের একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য নাঈমের বাবা কয়েক মাস আগে ধারদেনা করে কর্মসংস্থানের আশায় কাতারে পাড়ি জমান, কিন্তু এখনো সেখানে কোনো কাজ জোগাড় করতে পারেননি। এমন কঠিন সময়ে মায়ের ক্যানসার ধরা পড়ায় পরিবারটি পড়ে যায় চরম আর্থিক সংকটে।
পরিবারের এই দুর্দশার কথা জানতে পেরে এগিয়ে আসে নাঈমের সহপাঠীরা। এসএসসি ফলাফল প্রকাশের আগেই মায়ের অসুস্থতার খবর জানতে পারে তার বন্ধুরা। ফল প্রকাশের পর নিজেদের আনন্দ উদ্যাপনের বদলে সেই অর্থ চিকিৎসায় ব্যয় করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। গত ১৬ আগস্ট চল্লিশ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয় নাঈমের দাদার হাতে। পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও এই মানবিক উদ্যোগে শামিল হন।
শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিষয়টি নজরে আসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েরও, এরপরই আসে দুই লাখ টাকার এই সহায়তা।
নাঈম জানায়, মায়ের অসুস্থতার খবরের পর থেকে পুরো পরিবার দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছিল। বাবা বিদেশে গিয়েও কাজ না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল। এমন সময়ে বন্ধুদের এই উদ্যোগ এবং পরে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পরিবারকে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে বলে জানায় সে।
বিদ্যালয়ের পরিচালক শিক্ষার্থীদের এই মানবিক উদ্যোগে গভীরভাবে আপ্লুত হওয়ার কথা জানান। তার ভাষায়, শিক্ষার্থীদের এই ভালোবাসা প্রধানমন্ত্রীর নজর পর্যন্ত পৌঁছানো এবং তাতে পরিবারটি উপকৃত হওয়ায় পুরো বিদ্যালয় পরিবার আনন্দিত।
নাঈমের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধু এর আগে জানিয়েছিল, পাসের আনন্দে মিষ্টি খাওয়ার চেয়ে বন্ধুর মায়ের পাশে দাঁড়াতে পেরে তাদের মনে অনেক বেশি তৃপ্তি কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একাধিক প্রতিনিধিও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

