দেশে হালাল পণ্যের মান নির্ধারণ ও সনদ প্রদানের বিষয়টি এতদিন অনেকটা প্রাতিষ্ঠানিক রীতির ওপর নির্ভর করে চললেও, এখন সেটি পেয়েছে সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি। সরকারের কার্যপ্রণালিসংক্রান্ত মূল বিধিমালা সংশোধন করে এ-সংক্রান্ত দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করে সম্প্রতি একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
গেজেট আকারে প্রকাশিত এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর সংশ্লিষ্ট অংশে সংশোধনী অনুমোদন করেছেন। এই বিধিমালাতেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের তালিকা নির্ধারিত থাকে। সংশোধনের ফলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তালিকায় নতুন একটি অংশ যুক্ত হয়েছে, যেখানে হালাল মান নির্ধারণ ও সনদ প্রদানসংক্রান্ত বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এর ফলে এখন থেকে দেশে কোনো পণ্য বা প্রতিষ্ঠানের হালাল মান নির্ধারণ এবং সনদ প্রদানের বিষয়টি সরাসরি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সাংগঠনিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে গণ্য হবে। যদিও এই কার্যক্রম বাস্তবে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচালনা করে আসছে মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান, তবে এতদিন এই কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো নিয়ে নানা প্রশ্ন ছিল। নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে সেই অস্পষ্টতা অনেকাংশে দূর হলো বলে মনে করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, হালাল সনদ প্রক্রিয়ার সঙ্গে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য, বিশেষ করে মুসলিমপ্রধান দেশগুলোর বাজারে খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য রপ্তানির বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনেক সময় নির্ভরযোগ্য ও আইনি ভিত্তি সম্পন্ন সনদায়ন ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। এই প্রেক্ষাপটে সরকারি পর্যায়ে সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি হওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকরা। এতে দেশীয় হালাল সনদায়ন ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে এই সংশোধনীকে দেশের ধর্মীয় ও বাণিজ্যিক প্রশাসনিক কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে হালাল পণ্য খাতের নিয়ন্ত্রণ ও মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াকে আরও সুসংগঠিত করতে সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

