দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করছেন যে শিক্ষকেরা, তাঁদের দাবি আদায়ে ফের রাজপথে নামলেন তাঁরা। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। বাংলাদেশ নন-এমপিও (বেতন-বিহীন) শিক্ষক-কর্মচারী পরিষদের উদ্যোগে এই কর্মসূচি চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এর আগে রোববার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শর্তসাপেক্ষে অবস্থান কর্মসূচির অনুমতি দেয় ডিএমপি।
শিক্ষকদের প্রধান দাবি, সব নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একযোগে এমপিওভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের যোগদান তারিখ থেকেই এমপিও দিতে হবে এবং দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকদের পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। সংগঠনের সদস্যসচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বছরের পর বছর তাঁরা বেতন-ভাতা ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের একটাই দাবি, যোগ্য নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করে শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা।
এ প্রসঙ্গে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যক্ষ মো. দবিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষামন্ত্রী আগে জানিয়েছিলেন, নতুন ও পুরাতন সব আবেদন পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যোগ্যতার ভিত্তিতে এমপিওভুক্তির পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘সরকারকে সময় দেওয়ার প্রয়োজন আছে। তবে যদি সরকার এমপিওভুক্ত না করে, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবো।’
শিক্ষকদের দাবির প্রেক্ষাপটে উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকার ২০১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করলেও সেগুলো এখনো অনুমোদন হয়নি। পরবর্তী নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরে (২০২৬-২০২৭) প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে সব আবেদন পুনরায় যাচাই-বাছাই করে যোগ্যতার ভিত্তিতে এমপিওভুক্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএমপি শিক্ষকদের এই কর্মসূচির জন্য মোট ২১টি শর্ত দিয়েছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, অনুমোদিত স্থানের বাইরে কর্মসূচি পালন না করা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মসূচি শেষ করা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন বক্তব্য না দেওয়া, উসকানিমূলক বক্তব্য না দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় এমন কোনো কর্মকাণ্ড না করা। পুলিশ আরও জানিয়েছে, কর্মসূচি চলাকালে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করা যাবে না এবং কোনো বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেন।
শিক্ষকরা জানিয়েছেন, তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে এই কর্মসূচি পালন করছেন এবং তাঁদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এই দাবি আদায়ে তাঁরা আরও কঠোর কর্মসূচির কথাও জানিয়েছেন। এমপিওভুক্তি শিক্ষকদের জন্য যেমন কর্মস্থলের নিরাপত্তা ও আর্থিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করে, তেমনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্থায়িত্বও বাড়ায়। হাজার হাজার শিক্ষকের এই আন্দোলন কোনোদিন থেমে নেই। সরকারের সদিচ্ছা ও দ্রুত পদক্ষেপই পারে এই দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে।

