রাহাদ সুমন,বরিশাল প্রতিবেদক–
১১৪ বছর বয়সি বরিশাল জেনারেল হাসপাতালটি (সদর হাসপাতাল) নিজেই যেন অসুস্থ। চিকিৎসকের ৬২টি পদের ৩৭টিই শূন্য। জনবল সংকটের পাশাপাশি রয়েছে অবকাঠামোগত সংকটও। ১০০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি থাকছেন প্রায় ২০০ রোগী।
শয্যা না পেয়ে অনেককে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। বহির্বিভাগেও প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে হাসপাতালটির। এ রোগী সামাল দিতে রয়েছেন মাত্র ২৫ চিকিৎসক। ফলে একজন চিকিৎসককে গড়ে ৮০ জন রোগী দেখতে হচ্ছে। এতে রোগীপ্রতি কাঙ্ক্ষিত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
১৯১২ সালে প্রতিষ্ঠিত বরিশাল সদর হাসপাতালটি নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সার্ভিস হাসপাতাল। ১ হাজার শয্যার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আকার ও জনবলে বড় হলেও এটি মূলত একাডেমিক হাসপাতাল। সে তুলনায় সদর হাসপাতালটি সার্ভিস হাসপাতাল হলেও প্রতিষ্ঠার এক শতাব্দীর বেশি সময় পরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও অবকাঠামো সংকট কাটেনি।
জানা যায়, ১০০ শয্যার সদর হাসপাতালে অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৬২টি। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৫ জন। অর্থাৎ ৩৭টি পদই শূন্য। রোগীর চাপের তুলনায় এ জনবল দিয়ে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অবকাঠামোগত সংকট থাকায় হাসপাতালের অন্তঃবিভাগে ১০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় ২০০ রোগী ভর্তি থাকেন। ফলে শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে অবস্থান করতে হচ্ছে।
এতে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। বহির্বিভাগের চিত্র আরও নাজুক। প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ২৫ জন চিকিৎসক রোগী দেখলে প্রত্যেকের ভাগে গড়ে ৮০ জন রোগী পড়ছে। যদি পাঁচ ঘণ্টার পুরো সময় প্রতি রোগীকে ১০ মিনিট করে সময় দেওয়ার হিসাবে একজন চিকিৎসক সর্বোচ্চ ৩০ জন রোগী দেখতে পারেন। সে হিসাবে ২৫ জন চিকিৎসক মিলে ৭৫০ জন রোগীকে সেবা দিতে সক্ষম। কিন্তু বাস্তবে তাদের প্রায় তিনগুণ রোগী দেখতে হচ্ছে। ফলে রোগীপ্রতি ৩ থেকে ৪ মিনিটের বেশি সময় দেওয়ার সুযোগ থাকছে না।
বরিশাল নগরীর পলাশপুর এলাকার বাসিন্দা রোগী জামাল হোসেন বলেন, ‘ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু শয্যা না পেয়ে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এক রোগ সারাতে এসে অন্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
বহির্বিভাগের রোগী রাসেল হাওলাদার বলেন, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকের দেখা পাওয়ার পর কয়েক মিনিটে সেবা দেওয়া হয়েছে। রোগীর দীর্ঘ লাইন থাকায় চরম দুর্ভোগ হয়েছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসক ও কক্ষ সংখ্যা বৃদ্ধির দাবি জানান তিনি।
বরিশাল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, ‘জনবল, শয্যাসহ অন্যান্য সংকটের বিষয়গুলো মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। তারা সংকট দূর করতে আন্তরিক। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সমস্যার সমাধান হবে।’

