রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে তাঁদের বক্তব্যের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনে একই ধরনের শার্ট দেখা যাওয়াকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। রোববার তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে তাঁরা হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। ফলে তাঁদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে দুই যুবক ইয়াবা সেবনের পর পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদ হয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান। সেখানে শব্দ হলে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে এলে ঘটনাটি ঘটে বলে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য।
তবে এই বর্ণনা নিয়েই কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। পাশের নির্মাণাধীন ভবনের ফাঁকা জায়গা ও ছাদ থাকার পরও তাঁরা কেন গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গেলেন—এমন প্রশ্নের উত্তর এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তদন্ত এগোলে এসব বিষয় যাচাই হওয়ার কথা।
এদিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে এমন একটি শার্ট পরা অবস্থায় দেখা যায়, যা গ্রেপ্তার এক সন্দেহভাজনের শার্টের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ বলে দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে নানা আলোচনা হলেও একই ধরনের পোশাক একাধিক ব্যক্তির পরা সম্ভব—এমন মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা। ফলে শুধু পোশাকের মিলকে কোনো অপরাধের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
ঘটনার তদন্তে যুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা এবং গ্রেপ্তার সন্দেহভাজনদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে সন্দেহভাজনদের ধর্মীয় পরিচয়ের মিল সম্পূর্ণ কাকতালীয় এবং তদন্তে ধর্মীয় পরিচয় কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান টের পেয়ে দুই সন্দেহভাজনের একজন পালিয়ে কাছাকাছি এলাকায় আত্মগোপন করেছিলেন। পরে তাঁকে আটক করা হয়। রোববার নিহত শিক্ষক পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে।
এখন আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তি, ঘটনাস্থলের আলামত, প্রত্যক্ষ ও পারিপার্শ্বিক তথ্য এবং সন্দেহভাজনদের গতিবিধি—সবকিছু মিলিয়ে তদন্ত কতটা নির্ভুলভাবে হত্যাকাণ্ডের পুরো চিত্র তুলে ধরতে পারে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

