দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত পুলিশের পদায়নসংক্রান্ত একটি সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার জেরে পুলিশের বিশেষ শাখার সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিমকে সংযুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদরদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) তাকে খাগড়াছড়ির এপিবিএন ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন রেজাউল করিম। পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বঞ্চিত ছিলেন বলেও পরিচিতি রয়েছে।
নিজের পোস্টে রেজাউল করিম লেখেন, ‘আমি সংযুক্ত: আমার কাজ আর বাংলাদেশ পুলিশের প্রয়োজন নেই।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, পুলিশ বিভাগে ভালো কাজ করতে কর্মকর্তারা কেন উৎসাহিত হন না। গত ১৫ বছরের চাকরিজীবনে নয় বছর তাকে ‘ডাম্পিং পোস্টিংয়ে’ থাকতে হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পুলিশ বিভাগের ভেতরে তোষামোদকারীদের মূল্যায়ন করা হয় অভিযোগ করে তিনি আরও লেখেন, উচিত কথা বলা, সাহস নিয়ে সত্য বলা ও নিয়ম মেনে কাজ করা কর্মকর্তাদের এই বিভাগ মূল্যায়ন করতে পারে না। শতভাগ সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার পরও এমন ফল পেতে হলে তার আর কিছু বলার নেই বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
পরে তিনি লেখেন, ‘অন্যায়কে মেনে নেওয়ার চেয়ে সংযুক্ত থাকাই শ্রেয়। আমার আর বোধ হয় চাকরি করা হলো না। ভালো থাকবেন সবাই।’
পোস্টের একটি অংশে রেজাউল করিম তার সংযুক্তির কারণও তুলে ধরেন। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়ে যুগান্তরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি সেই সংবাদটি ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন। পরে পুলিশ সদরদপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জবাব দেন। যদিও পরে সংবাদটি শেয়ার করা পোস্ট মুছে ফেলেছিলেন, এরপরও তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রেজাউল করিম বলেন, সংবাদটি শেয়ার করার কারণে পুলিশ সদরদপ্তরের ডিআইজি কনফিডেনশিয়াল মো. কামরুল আহসান তাকে বকাঝকা করেন। সম্প্রতি কামরুল আহসান অতিরিক্ত আইজি পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। এর পরপরই তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন রেজাউল করিম।
এ বিষয়ে জানতে মঙ্গলবার রাতে মো. কামরুল আহসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদককে তার দপ্তরে গিয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
জানা গেছে, মো. রেজাউল করিম ২৯তম বিসিএসের কর্মকর্তা। ২০১১ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর সারদায় প্রশিক্ষণ শেষ করে তার প্রথম পদায়ন হয় মুক্তাগাছা এপিবিএনে। এরপর টানা নয় বছর পর্যটন পুলিশ, এপিবিএন, এভসেক, ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কক্সবাজার পর্যটন পুলিশে দায়িত্ব পালন করেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তাকে উল্লেখযোগ্য কোনো পদে পদায়ন করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য। তবে সর্বশেষ রাজবাড়ী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে তিনি প্রায় দুই বছর কাজ করেন। সেখানে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য প্রশংসিত হন বলে জানা গেছে।
কক্সবাজার পর্যটন পুলিশে দায়িত্ব পালনের সময়ও পর্যটকবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে তিনি প্রশংসা পান। হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
বর্তমানে তিনি সিটি এসবিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং সেখানেও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

