ময়মনসিংহের তারাকান্দায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে গলাপানিতে নেমে নিজেই খালের কচুরিপানা পরিষ্কারে অংশ নিলেন স্থানীয় একজন সংসদ সদস্য। আজ বুধবার বেলা এগারোটা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত তারাকান্দা উপজেলার কাকনী ইউনিয়নের পঙ্গুয়াই খালে এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি। তাকে পানিতে নামতে দেখে এলাকার শতাধিক বাসিন্দাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দেন এই কাজে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকার একটি বিল থেকে পঙ্গুয়াই খাল হয়ে পানি একসময় আরেকটি খালে গিয়ে পড়ত এবং সেখান থেকে নদীতে নিষ্কাশিত হতো। কিন্তু খালের একাংশের জমি নিজেদের দাবি করে কয়েকজন ব্যক্তি বাধা সৃষ্টি করায় গত সাত-আট বছর ধরে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে খালে অতিরিক্ত কচুরিপানা জমে তীব্র জলাবদ্ধতা তৈরি হয়, যার প্রভাবে আশপাশের নয়টি গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবারের ফসলি জমি ও বসতবাড়ি পানিতে ডুবে থাকে দীর্ঘদিন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে শত শত একর ফসলি জমি দীর্ঘদিন পানির নিচে তলিয়ে ছিল। সংসদ সদস্য নিজে কচুরিপানা পরিষ্কারের কাজে অংশ নেওয়ায় এই দীর্ঘদিনের সংকট সমাধানের আশা দেখছেন তিনি। ইতিমধ্যে খাল পরিষ্কারের ফলে আশপাশের এলাকার জমে থাকা পানি খালে নামতে শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।
একই এলাকার আরেক বাসিন্দা বলেন, খালটি সংশ্লিষ্ট একটি সেতু পর্যন্ত খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা গেলে তা পুরো অঞ্চলের মানুষের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে। তিনি জানান, এর আগে জলাবদ্ধতার বিষয়টি সংসদ সদস্যকে জানানো হলে তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন এবং আজ নিজে উপস্থিত হয়ে এলাকাবাসীকে উদ্বুদ্ধ করে খাল পরিষ্কারের কাজ করেন।
এ প্রসঙ্গে ওই সংসদ সদস্য বলেন, একসময় দেশের কৃষি, মৎস্য ও গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণশক্তি ছিল খালগুলো, কিন্তু বেদখল, ভরাট ও কচুরিপানার কারণে সেগুলো এখন নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। তার মতে, শুধু সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে খাল সচল রাখা গেলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে তিনি ঘোষণা দেন, খালের শেষ প্রান্তে থাকা ব্যক্তিমালিকানাধীন বাধাগ্রস্ত জমিটি তিনি নিজে কিনে নেবেন এবং খালটি খনন করে সংলগ্ন একটি বিলের সঙ্গে সংযুক্ত করে এর নাব্যতা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেবেন।

