রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে সরেজমিন পর্যালোচনার জন্য কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় পরিদর্শন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল।
গত বুধবার সন্ধ্যায় এই প্রতিনিধিদল প্রথমে রোহিঙ্গা শিবির ঘুরে দেখে, এরপর আরআরআরসি কার্যালয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসে। এই সফরে তাদের সঙ্গী হন জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার ওয়াশিংটন কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও।
মার্কিন প্রতিনিধিদলে ছিলেন কংগ্রেসের একাধিক সদস্যের আইনসভা-সংক্রান্ত সহকারী ও পরিচালকেরা, যাঁদের মধ্যে ছিলেন একজন প্রতিনিধি পরিষদ সদস্যের জ্যেষ্ঠ আইনসভা সহকারী, আরেকজন সদস্যের আইনসভা পরিচালক, একজন সিনেট রিপাবলিকান নীতি কমিটির জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং আরও কয়েকজন কংগ্রেস সদস্যের আইনসভা সহকারী ও পরিচালক পদমর্যাদার কর্মকর্তা। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার ওয়াশিংটন কার্যালয় থেকে যুক্ত ছিলেন তাদের জ্যেষ্ঠ বহিরাগত সম্পর্ক বিভাগের একজন কর্মকর্তা এবং একজন সহযোগী কর্মকর্তা।
বৈঠকে মূলত আলোচনা হয় রোহিঙ্গা মানবিক সংকটের বর্তমান অবস্থা, শরণার্থীশিবিরগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি, চলমান মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও টেকসইভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সম্ভাব্য পথ নিয়ে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এবং মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কতটা জরুরি, সে বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দশ বছরে পা রাখতে চলেছে এমন এক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতা হিসেবেই এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই সফরের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত মনোযোগ এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব আরেকবার সামনে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

