রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে দুই তরুণের মাঝে এক তরুণীকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আলোচিত মোটরসাইকেলটির নিবন্ধনে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরের কোনোটিই নির্ভরযোগ্য নয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, মোটরসাইকেলটির নম্বর প্লেটের তথ্য যাচাই করে এর মালিকের বাড়ি কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকায় বলে তথ্য পাওয়া গেছে। নিবন্ধনের নথিতে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরও পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি নম্বরের মালিক একটি মোটরসাইকেল বিক্রয়কেন্দ্রের মালিক। যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ওই মোটরসাইকেলটি তাঁর বিক্রয়কেন্দ্র থেকে বিক্রি হয়নি। নিবন্ধনে তাঁর মোবাইল নম্বর কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না।
অন্য মোবাইল নম্বরটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে মোটরসাইকেলটির নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য নিয়েও পুলিশের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের দিকে আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে তিন আরোহীসহ মোটরসাইকেলটি দেখা যায়।
ওমরাহ সফর শেষে বগুড়ায় ফেরার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত মোটরসাইকেলটিকে অনুসরণ করেন বলে জানান। তাঁর দাবি, মোটরসাইকেলে দুই তরুণের মাঝখানে একজন তরুণীকে নিথর অবস্থায় বসানো ছিল। পেছনে থাকা আরোহী তাঁকে জাপটে ধরে রেখেছিলেন।
মনোয়ার হোসেনের বর্ণনা অনুযায়ী, তরুণীর পায়ে কোনো জুতা ছিল না এবং তাঁকে দেখে মৃত বলে মনে হচ্ছিল।
তিনি দাবি করেন, বিষয়টি জানাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার চেষ্টা করলেও সংযোগ পাননি। পরে মোটরসাইকেলটির নম্বর প্লেটসহ একটি স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি। এরপর ছবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর টঙ্গী পুলিশ ওই সড়কের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করছে। ফুটেজের মাধ্যমে মোটরসাইকেলটির আরোহীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে মোটরসাইকেলটির নিবন্ধনে পাওয়া মোবাইল নম্বরের অসংগতি, একটি নম্বর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এবং অন্য নম্বরের মালিকের মোটরসাইকেল বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করার কারণে ঘটনাটির রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
মনোয়ার হোসেনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর ‘জারা চৌধুরী রাত্রি’ নামের একটি ফেসবুক হিসাব থেকে মন্তব্য করে দাবি করা হয়, তরুণীটি উত্তরার একটি বারে মদ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ওই ব্যক্তি নিজেকে ওই বারে উপস্থিত থাকার দাবি করে বলেন, তাঁকে পরে হুইলচেয়ারে করে নিচে নামানো হয়েছিল।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে একই হিসাব থেকে বলা হয়, ঘটনাটি ওই রাতেরই এবং পোশাক দেখে তরুণীকে শনাক্ত করা হয়েছে। নিজের বন্ধুদের দেখিয়েও তাঁরা একই তরুণী বলে নিশ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন ওই ব্যক্তি।
তবে ‘জারা চৌধুরী রাত্রি’ নামের ফেসবুক হিসাব থেকে দেওয়া এসব দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুলিশও এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
এ ছাড়া মোটরসাইকেলটির মালিকের প্রকৃত পরিচয় ও ঠিকানা নিয়েও সন্দেহ থাকায় তাঁর নাম-ঠিকানা প্রকাশ করা হয়নি।
এখন পর্যন্ত মোটরসাইকেলে থাকা দুই তরুণ এবং ওই তরুণীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার এস এম শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। মোটরসাইকেলটির নম্বরের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

