একটি ইজিবাইক চালকের নিয়মবহির্ভূতভাবে শহরে প্রবেশের চেষ্টা। পুলিশ ও বাস শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা তাকে বাধা দেন। সেই ঘটনার জেরে ইজিবাইক চালক তার সহযোগীদের নিয়ে একটি বাস আটকে দেন, চালক ও সুপারভাইজারকে মারধর করেন এবং জিম্মি করে রাখেন। আর তার প্রতিক্রিয়ায় বাস-মিনিবাস মালিক ও শ্রমিকরা জেলার ৫টি অভ্যন্তরীণ রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকে চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা-জীবননগর ও চুয়াডাঙ্গা-হাটবোয়ালিয়া রুটে বাস চলাচল বন্ধ।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট)। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের দৌলতদিয়াড় এলাকায় একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়মবহির্ভূতভাবে শহরে প্রবেশের চেষ্টা করে। পুলিশ ও বাস শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা তাকে বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ইজিবাইক চালক তার সহযোগীদের নিয়ে আলোকদিয়া এলাকায় চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে একটি বাস আটকে দেয়। তারা বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং জিম্মি করে রাখে। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে।
ঘটনার প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা দৌলতদিয়াড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশ সুপারের মধ্যস্থতায় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ন্যায্য বিচারের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও শ্রমিকদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ কমেনি। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দিনভর জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকে এবং শনিবার থেকে ৫টি রুটে আনুষ্ঠানিক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়।
এই ধর্মঘটের সবচেয়ে বড় শিকার সাধারণ যাত্রীরা। যাদের প্রতিদিনের কাজ, চিকিৎসা, ব্যবসা বা জরুরি প্রয়োজনে বাসের ওপর নির্ভর করতে হয়, তারা এখন পড়েছেন চরম বিপাকে। টার্মিনালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাস না পেয়ে অনেকে ফিরে যাচ্ছেন। যারা কোনোভাবে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন, তাদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া, বিকল্প যানবাহনে ভাড়া বেড়েছে কয়েক গুণ।
চুয়াডাঙ্গার বাস ধর্মঘটের প্রভাব শুধু যাত্রী দুর্ভোগেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিদিন এই রুটে কত ব্যবসায়ী তাদের পণ্য পাঠান, কত শ্রমিক কর্মস্থলে যান, কত শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে যান হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া এই পরিবহন সংযোগের অর্থনৈতিক ক্ষতিও কম নয়। দূরপাল্লার বাস চললেও অভ্যন্তরীণ রুটগুলো বন্ধ থাকায় জেলার ভেতরের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানিয়েছেন, শ্রমিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার এবং ইজিবাইকের অবৈধ চলাচল বন্ধে প্রশাসন দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। অন্যদিকে এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত উদ্যোগই পারে এই সংকটের সমাধান করতে। ইজিবাইকের চলাচল নিয়ে দীর্ঘদিনের এই বিরোধের নিষ্পত্তি না হলে বারবার এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, যেখানে সাধারণ মানুষই দেবে সবচেয়ে বেশি মূল্য।

