আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে কোনোভাবেই আদালতের রায় প্রণয়ন করা যাবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। তার ভাষায়, একটি মামলার প্রকৃত বিষয়বস্তু, প্রযোজ্য আইন ও ধারা, প্রাসঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একজন বিচারকের নিজস্ব বিবেক—এসব কিছু একত্রে বিশ্লেষণ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই বিচারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে দেশের প্রথম এআই গভর্নেন্স সামার স্কুলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।
তিনি বলেন, দেশে এআই প্রযুক্তি কোন কোন ক্ষেত্রে এবং কী পরিমাণে ব্যবহার করা যাবে, তা নির্ধারণ করতে একটি কার্যকর আইনি কাঠামো ও নীতিমালা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। তার মতে, এআই ব্যবহারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রাখা—এই দুটি বিষয়কে সামনে রেখেই প্রযুক্তিটির প্রয়োগ ঠিক করতে হবে।
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, এআই যথাযথভাবে ব্যবহারের জন্য কেবল প্রযুক্তিগত অবকাঠামো থাকলেই চলবে না, বরং তার সঙ্গে সমান গুরুত্ব দিতে হবে সংশ্লিষ্টদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জনের বিষয়টিতে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, এআইয়ের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই না করে ব্যবহার করা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ এই প্রযুক্তি সবসময় নির্ভুল ফলাফল দেয় না।
বিশ্লেষকদের মতে, বিচার বিভাগের শীর্ষ পদ থেকে আসা এই মন্তব্য এমন এক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যখন বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দ্রুত কাজের সুবিধার্থে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। বিচার বিভাগের মতো স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে মানুষের বিবেচনাবোধ ও নৈতিক দায়িত্ববোধের গুরুত্ব যে এখনো অপরিহার্য, প্রধান বিচারপতির এই বক্তব্য তারই একটি স্পষ্ট বার্তা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

