নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে তীব্র ও কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান শওকত আজিজ রাসেল। এক টেলিভিশন টক শোতে অংশ নিয়ে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আলোচনায় শীর্ষ এই শিল্পপতি দাবি করেন, বিদেশি পক্ষকে সন্তুষ্ট করার লক্ষ্যে এমন একটি অসম চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, যার ফলে দেশের সার্বভৌমত্ব চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষায়, এই চুক্তির মাধ্যমে দেশকে একরকম পরনির্ভরশীল অবস্থানে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
কর মওকুফ সুবিধা নিয়েও কড়া প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দাতব্য প্রতিষ্ঠান পরিচালনার আড়ালে প্রতিষ্ঠানগুলোকে অলাভজনক দেখিয়ে বড় অঙ্কের কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে, যা আইনি জটিলতার সুযোগ নিয়ে সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর মতে, প্রথমে রাষ্ট্রীয় কর পরিশোধ করাই উচিত, এরপর বাকি অর্থ দিয়ে সামাজিক বা দাতব্য কাজ করা যেতে পারে। একই সুযোগ সাধারণ ব্যবসায়ীদেরও দেওয়া হলে তারাও নিজ প্রতিষ্ঠানকে একইভাবে ব্যবহার করতে পারতেন বলে তিনি মন্তব্য করেন, যদিও বাস্তবে সেই সুযোগ তাদের নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দেশের সার্বভৌমত্ব প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জনগণ ও ব্যবসায়ী সমাজকে পুরোপুরি না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বড় ধরনের চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে, যা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক বলে তিনি মনে করেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, এই চুক্তির কারণে ভবিষ্যতে জ্বালানি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও বহিরাগত অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে, যা দেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে সীমিত করে দেবে বলে তিনি মনে করেন।
আলোচনায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি জানান, রাশিয়ার সহযোগিতায় বাস্তবায়িত প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পে মূল কেন্দ্র নির্মাণের বাইরে অবকাঠামো খাতেই ব্যয় হয়েছে ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি, যার মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার মানুষের আবাসন ব্যবস্থাও। তাঁর মতে, যেহেতু এই অবকাঠামো ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে, তাই ভবিষ্যতে একই মানের আরেকটি প্রকল্প অনেক কম খরচে বাস্তবায়ন সম্ভব ছিল। তবে সাম্প্রতিক চুক্তির কারণে ভবিষ্যতে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে এ ধরনের প্রকল্প করা যাবে কিনা, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন এবং এটিকে সম্ভাব্য বড় জাতীয় ক্ষতি হিসেবে অভিহিত করেন।
আলোচনার শেষদিকে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ব্যক্তি হিসেবে ড. ইউনূস হয়তো শ্রদ্ধার পাত্র, তবে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পরও শেষ পর্যন্ত জাতির স্বার্থের পরিপন্থী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তিনি মনে করেন। বিদেশি পক্ষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে এই চুক্তির মাধ্যমে দেশের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে বলেই তাঁর দাবি।

