প্রবাসী কর্মীদের বিমানভাড়া সহনীয় পর্যায়ে রাখতে টিকিট বিক্রিতে অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্যে ট্রাভেল এজেন্সি সংক্রান্ত আইন ও বেসামরিক বিমান চলাচল আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিমান টিকিটে ট্রাভেল এজেন্সির নাম, লাইসেন্স নম্বর এবং প্রকৃত বিক্রয়মূল্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা এখন থেকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আজ রোববার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সংসদ সদস্যের প্রশ্নের লিখিত জবাবে এসব তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে মন্ত্রী বিস্তারিতভাবে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, যাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা আনতে সরকার ইতিমধ্যে দশ দফা নির্দেশনাসংবলিত একটি পরিপত্র জারি করেছে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, সব ট্রাভেল এজেন্সিকে বিমান টিকিটে নিজেদের নাম, লাইসেন্স নম্বর এবং টিকিটের প্রকৃত বিক্রয়মূল্য স্পষ্ট অক্ষরে উল্লেখ করতে হবে, যাতে যাত্রীরা প্রতারণার শিকার না হন।
বিমানভাড়া নির্ধারণ প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী বিমান পরিবহন খাতে সাধারণত পরিবর্তনশীল মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, যেখানে এয়ারলাইন্সের নিজস্ব আয় ব্যবস্থাপনা কৌশল কাজ করে। রুট, গন্তব্য, দূরত্ব, টিকিট বুকিংয়ের সময়, যাত্রার তারিখ, আসন প্রাপ্যতা, এয়ারলাইন্সের ধরন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম, বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট চার্জ এবং বিভিন্ন সরকারি কর ও ফি বিবেচনায় নিয়েই টিকিটের মূল্য নির্ধারিত হয়ে থাকে।
তাঁর মতে, এসব কারণে একই রুটে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে চাহিদা ও আসন প্রাপ্যতার পার্থক্যের কারণে বিমানভাড়ায় উল্লেখযোগ্য তারতম্য দেখা যেতে পারে। তাই কেবল একটি বা কয়েকটি সূচক বিবেচনা করে বিভিন্ন সময়ের ভাড়া তুলনা করাটা যুক্তিসংগত নয় বলে মনে করেন তিনি।
প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিশেষ কিছু সুবিধার কথাও সংসদে তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিটে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমানবন্দরের বিশেষ লাউঞ্জে সুবিধা, পৃথক ইমিগ্রেশন চ্যানেল এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক চেক-ইন সেবা চালুরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সবশেষে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বিমান টিকিটের বাজারে সার্বিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সরকারের এই উদ্যোগগুলোর মূল লক্ষ্য, আর এ লক্ষ্য বাস্তবায়নেই প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

