Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice মঙ্গল, সেপ্টে. 1, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » শিল্পে জ্বালানি নেই, নতুন বিনিয়োগের আগে পুরোনোদের বাঁচানোর আহ্বান
    বাংলাদেশ

    শিল্পে জ্বালানি নেই, নতুন বিনিয়োগের আগে পুরোনোদের বাঁচানোর আহ্বান

    নিউজ ডেস্কআগস্ট 31, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ আনার আগে বিদ্যমান শিল্পকারখানাগুলোর জ্বালানি সংকট সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতা, শিল্পোদ্যোক্তা ও নীতিবিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, গ্যাসের অপ্রতুল সরবরাহ, বিদ্যুতের ঘন ঘন বিভ্রাট এবং বাড়তি জ্বালানি ব্যয় এখন শুধু শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত করছে না, বরং দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, রপ্তানি সক্ষমতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতাকেও দুর্বল করে দিচ্ছে।

    ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঢাকায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে দেশে বিনিয়োগ করেছে, তাদেরই যদি নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে নতুন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আনার উদ্যোগ খুব বেশি কার্যকর হবে না। বরং বিদ্যমান শিল্পগুলোকে টিকিয়ে রাখতে পারলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং নতুন বিনিয়োগের পথও সহজ হবে।

    ‘বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ: আরও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশের জন্য জ্বালানি’ শীর্ষক আলোচনা সভাটি আয়োজন করে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশ। রাজধানীর গুলশানে মেট্রোপলিটন চেম্বারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় শিল্পের বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

    লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, সরকার দীর্ঘদিন ধরে নতুন বিনিয়োগকারী আনার জন্য বিভিন্ন সভা ও কর্মসূচি করছে। কিন্তু তাঁর মতে, এখনই নতুন বিনিয়োগের দিকে না গিয়ে আগে বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।

    তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে উৎপাদন চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল ও জ্বালানি নিশ্চিত করা না গেলে নতুন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে লাভ হবে না। তিনি মনে করেন, আগে বিদ্যমান শিল্পগুলোকে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ করে ব্যবসার পরিবেশ স্বাভাবিক করতে হবে। এরপর নতুন বিনিয়োগের দিকে এগোনো উচিত।

    ইকবাল চৌধুরী জ্বালানি খাতের জন্য ২০ বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রণয়নেরও আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, স্বল্পমেয়াদি নীতির ওপর ভিত্তি করে শিল্প ও বিনিয়োগের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা সম্ভব নয়। বিনিয়োগকারীদের জন্য জ্বালানি হতে হবে টেকসই, সাশ্রয়ী এবং নির্ভরযোগ্য।

    এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হকও বিদ্যমান শিল্প স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত নতুন শিল্প বিনিয়োগে সতর্ক থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান যদি বর্তমান পরিস্থিতিতেই টিকে থাকতে না পারে, তাহলে আগামী ১০ বছর পরের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই।

    এই বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত শিল্প খাতে আস্থার সংকটের বিষয়টি সামনে এসেছে। নতুন বিনিয়োগের জন্য শুধু জমি, কর সুবিধা বা অবকাঠামো থাকলেই যথেষ্ট নয়। একজন বিনিয়োগকারীকে নিশ্চিত হতে হয় যে বিনিয়োগের পর তাঁর কারখানা নিয়মিত উৎপাদন চালাতে পারবে এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে প্রতিদিন নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হবে না।

    বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, গ্যাসের ঘাটতি এখন বস্ত্রকলগুলোর জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের অনেক বস্ত্রকল নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে গ্যাসের চাপ কমে গেলে শুধু জ্বালানি সংকট তৈরি হয় না, কারখানার উৎপাদনও সরাসরি কমে যায়।

    তিনি বলেন, ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের কাজ হলো সমস্যাগুলো তুলে ধরা এবং সমাধানের পথ দেখানো। কিন্তু নীতিনির্ধারকেরা এসব সমস্যার কথা কতটা গুরুত্ব দিয়ে শুনছেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

    শওকত আজিজ রাসেল আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কম থাকার সময়ে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করার সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগায়নি। অন্যদিকে ভারত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির দিকে এগিয়েছে। বাংলাদেশ তখন তুলনামূলকভাবে তাৎক্ষণিক দরের ওপর বেশি নির্ভর করেছিল। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতির একটি অংশ সেই সিদ্ধান্তের ফল।

    তিনি শিল্পকারখানাগুলো সচল রাখতে সরকার ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি অন্তর্বর্তী নীতি তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।

    শিল্পের টেকসই উন্নয়নবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসটেক্স ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইজাজ হোসেন মনে করেন, জ্বালানি সংকট এখন আর শুধু সরবরাহের সমস্যা নয়, এটি সরাসরি অর্থনৈতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

    তিনি বলেন, একসময় শিল্পকারখানাগুলো প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের জন্য ৮ টাকা দিত। এখন সেই দাম প্রায় ৪০ টাকা। অর্থাৎ গ্যাসের দাম প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। অথচ গত তিন বছর ধরে শিল্পগুলো বাড়তি দাম দেওয়ার পরও পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছে না।

    এ অবস্থায় নতুন করে কোনো উদ্যোক্তা বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবেন কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, জ্বালানি ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সমন্বিত নীতি প্রয়োজন। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানির মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।

    সিরামিক শিল্পেও গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব মারাত্মক হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ সিরামিক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মইনুল ইসলাম বলেন, সিরামিক উৎপাদনে গ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত গ্যাস ছাড়া এই শিল্পের উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া কঠিন।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, কারখানা বন্ধ হতে শুরু করলে এর প্রভাব শুধু উদ্যোক্তাদের ওপর পড়বে না। ব্যাংক, সরকার এবং সাধারণ মানুষও এর চাপ অনুভব করবে। কারণ শিল্প বন্ধ হলে কর্মসংস্থান কমবে, ব্যাংকঋণ পরিশোধের সক্ষমতা দুর্বল হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নিউ এজ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম বলেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় উৎপাদন ধীর হয়ে যাচ্ছে। এতে রপ্তানি আদেশ সময়মতো পূরণ করা কঠিন হচ্ছে এবং দেশের রপ্তানি সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

    রপ্তানিমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রেতারা শুধু কম দাম নয়, নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহের সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেন। কোনো কারখানা জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন কমিয়ে দিলে সময়মতো পণ্য পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। দীর্ঘমেয়াদে এতে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    আসিফ ইব্রাহিম রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোকে জ্বালানি সরবরাহে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ কখন থাকবে এবং কখন থাকবে না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সময়সূচি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। এতে কারখানাগুলো অন্তত তাদের উৎপাদন পরিকল্পনা আগেভাগে সাজাতে পারবে।

    ব্যবসায়ীদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হলো, তাঁরা শুধু সস্তা জ্বালানি চান না। তাঁদের প্রয়োজন প্রতিযোগিতামূলক, স্বচ্ছ এবং পূর্বানুমানযোগ্য মূল্যব্যবস্থা। একজন উদ্যোক্তা যদি জানেন আগামী কয়েক মাসে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ কেমন থাকবে, তাহলে উৎপাদন, পণ্যের দাম, শ্রমিক ব্যয় এবং রপ্তানি পরিকল্পনা করা তুলনামূলক সহজ হয়।

    কিন্তু জ্বালানির দাম যেমন অনিশ্চিত, সরবরাহও যদি অনিয়মিত হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে বিনিয়োগের ঝুঁকি বাড়ে এবং নতুন উদ্যোক্তারা স্বাভাবিকভাবেই সতর্ক হয়ে যান।

    শিল্পোদ্যোক্তারা নিজেদের উদ্যোগেও বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছেন। আসিফ ইব্রাহিম জানান, তাঁর কারখানা প্রায় ৩ কোটি থেকে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫৬৬ কিলোওয়াট ক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে। এই ব্যবস্থা সর্বোচ্চ চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে।

    তবে বিকল্প শক্তির এই ব্যবস্থা পুরো সংকটের সমাধান করতে পারছে না। বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণে অনেক সময় ডিজেলের মতো ব্যয়বহুল জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমছে।

    পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজ জ্বালানি সংকটকে ব্যবসার জন্য প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশ গত অন্তত তিন বছর ধরে জ্বালানি সমস্যার মধ্যে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ নীতিগত অসামঞ্জস্যের কারণে তৈরি হওয়া এই সমস্যা এখন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

    তিনি মনে করেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের পাশাপাশি মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। শুধু বর্তমান সংকট সামাল দিলেই হবে না, ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের সংকট বারবার ফিরে না আসে, সেই ব্যবস্থাও করতে হবে।

    মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মহাসচিব ফারুক আহমেদ বলেন, গ্যাসের ঘাটতি ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অনেক কারখানা পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। তাঁর মতে, বিদ্যমান ব্যবস্থার উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই প্রায় অর্ধেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হতে পারে।

    এই বক্তব্যটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জ্বালানি সংকট সমাধানের অর্থ শুধু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র বা নতুন গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করা নয়। বিদ্যমান সম্পদ কীভাবে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, কোথায় সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে, কোন শিল্পকে কখন অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং কীভাবে অপচয় কমানো যায়—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটের প্রভাব কারখানার গণ্ডি ছাড়িয়ে অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে পৌঁছাচ্ছে। উৎপাদন কমলে পণ্যের সরবরাহ কমে যায়, উৎপাদন ব্যয় বাড়লে পণ্যের দাম বাড়তে পারে এবং রপ্তানিমুখী শিল্প আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে। সময়মতো রপ্তানি আদেশ পূরণ করা না গেলে বিদেশি ক্রেতার আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    এর সঙ্গে কর্মসংস্থান ও ব্যাংকঋণের বিষয়ও জড়িত। কোনো কারখানা দীর্ঘ সময় কম সক্ষমতায় চললে তার আয় কমে যেতে পারে। আয় কমলে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও দুর্বল হয়। আর কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিক, ব্যাংক, সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সরবরাহব্যবস্থার ওপর একসঙ্গে চাপ তৈরি হতে পারে।

    এ কারণেই ব্যবসায়ী নেতারা জ্বালানি সংকটকে শুধু একটি খাতের সমস্যা হিসেবে দেখছেন না। তাঁদের কাছে এটি এখন দেশের শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং রপ্তানি সক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি অর্থনৈতিক সংকট।

    বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের জন্য শুধু নতুন প্রকল্পের সুযোগ তৈরি করলেই হবে না। তাঁদের দেখাতে হবে যে দেশে বিনিয়োগ করার পর নির্ভরযোগ্যভাবে উৎপাদন চালানোর মতো পরিবেশও রয়েছে।

    বিদ্যমান শিল্পগুলো যদি পর্যাপ্ত গ্যাস না পায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গিয়ে ব্যয় বাড়ে, তাহলে নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশের ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যাবে।

    তাই ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যের মূল বার্তা হলো, নতুন বিনিয়োগের প্রচারের পাশাপাশি আগে বিদ্যমান শিল্পকে টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। শিল্পকারখানাগুলোকে পর্যাপ্ত, নির্ভরযোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক দামে জ্বালানি দেওয়া গেলে শুধু বর্তমান সংকটই কমবে না, বরং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও বাড়বে।

    দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন এমন একটি জ্বালানি নীতি, যেখানে সরবরাহ, মূল্য, বিকল্প শক্তি এবং শিল্পের প্রয়োজন—সবকিছুকে একসঙ্গে বিবেচনা করা হবে। ২০ বছরের কৌশল, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ, বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণ এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর মতো উদ্যোগ একসঙ্গে নিতে পারলে শিল্পের ওপর চাপ কমানো সম্ভব।

    শেষ পর্যন্ত নতুন কারখানা কতটি দেশে আসবে, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বিদ্যমান কারখানাগুলো কতটা স্থিতিশীলভাবে উৎপাদন করতে পারছে। কারণ যে শিল্প এখন জ্বালানি সংকটে টিকে থাকার লড়াই করছে, তার সামনে নতুন বিনিয়োগের স্বপ্ন দেখানো কঠিন। আগে সেই শিল্পকে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি দিতে হবে। তারপরই নতুন বিনিয়োগের দরজা আরও বড় করে খোলার উদ্যোগ কার্যকর ফল দিতে পারে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    বাংলাদেশ

    নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন, তিন ধাপে বাড়বে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন

    আগস্ট 31, 2026
    বাংলাদেশ

    অবৈধ সম্পদের অভিযোগে দুদকে তলব সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে

    আগস্ট 31, 2026
    আইন আদালত

    বিপ্লব বড়ুয়া ও স্বজনদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    আগস্ট 31, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.