দীর্ঘ চার দশকের বিরতির পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে ফিরছে বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী একাশিতম অধিবেশন উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন, যা কূটনৈতিক অঙ্গনে দেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘের সদর দপ্তরে স্থানীয় সময় সকাল এগারোটায় বিদায়ী সভাপতি আশিতম অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করবেন। এরপর বিকেল তিনটায় নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব বুঝে নিয়ে একাশিতম অধিবেশনের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর মাধ্যমে চল্লিশ বছর পর আবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদ ফিরে পাচ্ছে বাংলাদেশ। এর আগে ঊনিশশ ছিয়াশি-সাতাশি সালে একচল্লিশতম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন তৎকালীন এক পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছরের জুন মাসে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে একাশিতম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ওই নির্বাচনে তিনি নিরানব্বই ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের একজন প্রার্থী পান একানব্বই ভোট। ভোটের ব্যবধান বেশি না হলেও চূড়ান্তভাবে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের পক্ষেই।
জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের প্রচলিত আঞ্চলিক পর্যায়ক্রমিক ব্যবস্থার আওতায় এবারের সভাপতির পদটি নির্ধারিত ছিল এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য, যে কারণে এই অঞ্চল থেকে একজন প্রতিনিধি এই দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ পান।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘের মতো বৈশ্বিক ফোরামে সভাপতির আসনে বসার এই সুযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত করবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক ইস্যুতে দেশের মতামত তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এটি একটি বড় সুযোগ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

