পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যাতে প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গত দুই দিন ধরে সেখানকার আভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া আগুনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিও পুড়ে গেছে। যদিও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, সব নথির ডিজিটাল ব্যাকআপ সংরক্ষিত রয়েছে।
প্রকল্পে দায়িত্বরত ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার ভোরে প্রকল্পের দুই নম্বর ফটকের কাছাকাছি অবস্থিত বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের একটি পুরোনো কার্যালয়ে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর মধ্যেই কার্যালয়ে রক্ষিত বিভিন্ন নথি এবং অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যায়।
প্রকল্পের ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী কার্যালয়ে থাকা একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পরীক্ষা করে দেখছে।
প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে তেমন বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু নথিপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা গুরুত্বপূর্ণ কোনো সমস্যা তৈরি করবে না, কারণ প্রতিটি নথির ডিজিটাল ব্যাকআপ সংরক্ষিত আছে। তবে সার্ভার স্টেশনের ক্ষতির কারণে অভ্যন্তরীণ ইন্টারনেট সেবা দুই দিন ধরে ব্যাহত থাকায় সেই সেবা পুনরায় সচল করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনা প্রকল্পের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মানদণ্ড অনুযায়ী এ ধরনের স্পর্শকাতর স্থাপনায় একটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ফায়ার স্টেশন থাকা বাধ্যতামূলক, যেখানে অন্তত দুইশর বেশি দক্ষ জনবল নিয়োজিত থাকার কথা। কিন্তু রূপপুর প্রকল্পে এখনো এমন কোনো পূর্ণাঙ্গ ফায়ার স্টেশন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বর্তমানে মাত্র ঊনপঞ্চাশ জন কর্মী নিয়ে একটি সাধারণ মানের ফায়ার স্টেশনের মাধ্যমে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে তাঁদের কাছে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম রয়েছে এবং প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী ফায়ার স্টেশনগুলো থেকেও সহায়তা নেওয়ার সুযোগ আছে। তিনি জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ নিজস্ব প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা এখনো সম্পন্ন হয়নি। এ কারণে বর্তমানে সাধারণ কর্মী দিয়েই কাজ চালাতে হচ্ছে। তবে তাঁর আশা, প্রকল্প কর্তৃপক্ষ যখন নিজস্ব ফায়ার স্টেশনের পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করবে, তখন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা তৈরি হয়ে যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি পারমাণবিক স্থাপনায় এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড, তা যত ছোট হোক না কেন, নিরাপত্তা প্রশ্নে বাড়তি সতর্কতা দাবি করে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানের পূর্ণাঙ্গ ফায়ার স্টেশন এখনো চালু না হওয়ার বিষয়টি প্রকল্পের সামগ্রিক নিরাপত্তা প্রস্তুতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

