রাজধানী ঢাকায় আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে দুইটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সকাল ১০টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে এপেক্সের জুতার শোরুমে আগুন লাগে। এর দুই ঘণ্টা পর বেলা ১১টা ১২ মিনিটে মহাখালীতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর পুরোনো ভবনে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। দুই ঘটনাতেই তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি, তবে আগুনের ধোঁয়া ও আতঙ্কে ব্যস্ত হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।
ধানমন্ডির ঘটনাটি ঘটে সকাল ১০টা ৫ মিনিটে। ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তরের মুখপাত্র তালহা বিন জসিম জানান, খবর পাওয়ার পর মোহাম্মদপুর ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় পরে আরও চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়, মোট ছয়টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়। ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম জানান, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কের উত্তর পাশে মীনাবাজারের বিপরীতে অবস্থিত ভবনটির পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়।
এদিকে মহাখালীর ঘটনাটি ঘটে বেলা ১১টা ১২ মিনিটে। ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন জানান, এসকেএস শপিং মলের পেছনে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর পুরনো অফিসের কাছে একটি পুরনো ভবনে আগুন লাগার খবর পায় তারা। খবর পাওয়ার পর তেজগাঁও ফায়ার স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। আগুন থেকে উঠা কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী বহু দূর থেকেও দেখা যায়। এই ভবনটি সাত তলা বলে জানা গেছে, যা দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।
দুই ঘটনার মধ্যে মিল হলো, দুটোই বাণিজ্যিক এলাকায় ঘটেছে, দুটোতেই আগুন নেভাতে একাধিক ইউনিট কাজ করছে, এবং দুটোতেই আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস। তবে পার্থক্যও কম নয়। ধানমন্ডির আগুন লাগে একটি চালু শোরুম ভবনের ওপরের তলায়, যেখানে ক্রেতা ও কর্মচারীদের চলাচল থাকে। অন্যদিকে মহাখালীর আগুন লাগে একটি পরিত্যক্ত পুরোনো ভবনে, যেখানে সাধারণত কেউ থাকেন না। তবুও পরিত্যক্ত ভবনে আগুন লাগা মানে এই নয় যে ঝুঁকি কম, বরং এ ধরনের ভবনে বৈদ্যুতিক তার, গ্যাস লাইন বা জমে থাকা আবর্জনা থেকে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে।
প্রশ্ন হলো, কেন রাজধানীর বাণিজ্যিক এলাকায় বারবার আগুন লাগছে? ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক ত্রুটি, গ্যাস লিকেজ, রান্নার সময় অসতর্কতা এবং জ্বলনশীল পদার্থের অব্যবস্থাপনা; এগুলোই আগুন লাগার প্রধান কারণ। বিশেষ করে পুরোনো ভবনগুলোতে বৈদ্যুতিক তারের অবস্থা খারাপ থাকে, ফায়ার অ্যালার্ম বা অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকার কারণে ছোট আগুনও বড় দুর্ঘটনায় পরিণত হয়। আজকের দুই ঘটনা তাই শুধু দুইটি আলাদা দুর্ঘটনা নয়, বরং রাজধানীর অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতারই আয়না।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লাগবে। ধানমন্ডির ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ আহত হওয়ার বা ভবনের ভেতরে আটকা পড়ার খবর পাওয়া যায়নি। মহাখালীর ঘটনাতেও হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। দুই ঘটনাই আবারও মনে করিয়ে দেয়; নগর পরিকল্পনা ও অগ্নি নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের আরও সচেতন হওয়ার সময় এসেছে।

