কারাবন্দি ছেলেকে একনজর দেখার প্রবল ইচ্ছা নিয়েও শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ পেলেন না সন্ধ্যা রাণী ধর। সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা অসুস্থ অবস্থায় ছেলেকে দেখার জন্য প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেছিলেন, কিন্তু সেই আবেদন কার্যকর হওয়ার আগেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অবস্থিত শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধাম আশ্রমে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুর দুদিন আগে মঙ্গলবার নিজেই এই আশ্রমে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন সন্ধ্যা রাণী ধর। উল্লেখ্য, তার ছেলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসও দীর্ঘদিন এই আশ্রমেই থাকতেন।
জানা গেছে, মৃত্যুর আগে চট্টগ্রামের একটি মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি, যেখানে চিকিৎসকরা তার শরীরে ক্যানসার শনাক্ত করেন। তবে হাসপাতালে থাকার বদলে ছেলের আশ্রমেই জীবনের বাকি সময়টা কাটাতে চেয়েছিলেন এই মা।
মায়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের এক ভাই কান্নাজড়িত কণ্ঠে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মা বেঁচে থাকতে ভাই তাকে একবারের জন্যও দেখার সুযোগ পেলেন না। পরিবারের আরেক সদস্য জানান, মরদেহ প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হবে, সেখান থেকে মেডিকেল সনদ সংগ্রহ করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের প্যারোলে মুক্তির জন্য নতুন আবেদন জানানো হবে বলে জানানো হয়। মায়ের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামেই।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ছেলে দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকায় মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়েছিলেন সন্ধ্যা রাণী ধর। ছেলের অসুস্থতার খবর, বারবার জামিনের আবেদন নাকচ হওয়া এবং মুক্তি না পাওয়ার হতাশা তাকে দীর্ঘমেয়াদি দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। সর্বশেষ জামিন শুনানি ঘিরে তিনি আশাবাদী হয়েছিলেন, কিন্তু তাতেও ফল না আসায় তার উদ্বেগ চরমে পৌঁছায়।
এরপরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ থেকেই তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং পরবর্তীতে হৃদযন্ত্রেও জটিলতা দেখা দেয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার চিকিৎসা চলছিল।
এদিকে অসুস্থ মাকে দেখতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে সাময়িকভাবে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, ছেলে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই তীব্র মানসিক উদ্বেগে ভুগছিলেন সন্ধ্যা রাণী ধর, এবং এর আগে একবার ছেলের অসুস্থতার সংবাদ শুনেও তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত ছেলেকে চোখের সামনে দেখার আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ রেখেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন তিনি।

