চট্টগ্রামের একটি অন্যতম বড় সরকারি গণগ্রন্থাগার সমৃদ্ধ, তবে পাঠকশূন্য। এক লাখেরও বেশি বইয়ের বিশাল সংগ্রহ থাকলেও গত সাত বছর ধরে পাঠকদের জন্য বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের সেবা কার্যক্রম। এই দীর্ঘ বিরতির মূল কারণ একটি নির্মাণ প্রকল্পের ধীরগতি, যা এখনো শেষ হওয়ার মুখ দেখছে না।
জানা গেছে, ‘চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন’ নামের একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে গণগ্রন্থাগারের জন্য আধুনিক নকশায় ষোলো তলা একটি নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো সব নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়নি। এই সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্সের আওতায় শুধু গ্রন্থাগার ভবনই নয়, একই সঙ্গে নির্মিত হচ্ছে মুসলিম ইনস্টিটিউট মিলনায়তন এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারও।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মূলত তিন বছর মেয়াদে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের সময়সীমা এরই মধ্যে চার দফায় বাড়ানো হয়েছে। সময়ের পাশাপাশি বেড়েছে ব্যয়ের অঙ্কও—শুরুতে নির্ধারিত প্রায় দুইশত বত্রিশ কোটি টাকার প্রাক্কলিত ব্যয় বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে প্রায় দুইশত নব্বই কোটি টাকায়। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পের মেয়াদ সবশেষ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই দীর্ঘসূত্রতার ফলে সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছেন সাধারণ পাঠকরা, যারা সরকারি এই গ্রন্থাগারের বিপুল বইয়ের ভাণ্ডার থেকে বছরের পর বছর ধরে বঞ্চিত হচ্ছেন। একটি সাংস্কৃতিক অবকাঠামো নির্মাণের নামে শুরু হওয়া প্রকল্প কীভাবে পাঠকসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি কার্যক্রমকে দীর্ঘদিন স্থগিত রাখতে পারে, তা নিয়ে স্থানীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি সচেতন মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। বারংবার সময় বৃদ্ধি ও ব্যয় বৃদ্ধির এই ধারা প্রকল্প ব্যবস্থাপনার সার্বিক দুর্বলতাকেই স্পষ্ট করে তুলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

