স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতাকে কোনো বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হয় না বলে স্পষ্ট করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তার ভাষায়, এ বিষয়ে বিদ্যমান নির্বাচনী আইনেও কোনো নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।
রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। এর আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খানের সঙ্গে তার কার্যালয়ে এক বৈঠকে মিলিত হন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রীও।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না—এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন। তার মতে, প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা সংক্রান্ত বিধিমালা নির্ধারণের দায়িত্ব মূলত কমিশনের, আর প্রচলিত আইন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা পর্যালোচনা করেই তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, ইউনিয়ন পরিষদ সংক্রান্ত আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, কোনো ব্যক্তি যদি রাষ্ট্র, পরিষদ বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অধীনে কোনো লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে কর্মরত থাকেন, তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় এমপিওভুক্ত পদকে লাভজনক পদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা নির্বাচনী আইনের সঙ্গে অনেকাংশে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বৈঠকে মূলত স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও গণতান্ত্রিকভাবে সুদৃঢ় করার বিভিন্ন দিক নিয়ে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়গুলো। এর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নির্বাচনী অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান মন্তব্য করেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং জনগণের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হলে শক্তিশালী স্থানীয় সরকারব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের ভিত মজবুত না হলে রাষ্ট্রের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক কাঠামো টেকসই হয়ে উঠবে না।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মতো বিপুল জনসংখ্যার একটি দেশে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে কার্যকর স্থানীয় সরকারব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। এ জন্য জনশক্তিকে দক্ষতায় রূপান্তরের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও তিনি জোর দেন। তার ভাষ্যে, প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমেই স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করে তোলা সম্ভব। তিনি এ-ও জানান, সরকারপ্রধান অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রয়েছেন।
বৈঠকে সার্বিকভাবে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার, গণতন্ত্র ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাসহ একাধিক বিষয়ে মতবিনিময় হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

