দীর্ঘদিনের বিতর্কিত বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব) আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করে সরকার এবার নতুন একটি পুলিশ ইউনিট চালুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করল। ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-২০২৬’ নামের এই নতুন আইনের প্রজ্ঞাপন মঙ্গলবার সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়েছে।
গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র্যাব গঠন-সংক্রান্ত পুরোনো আইনি কাঠামো, যা মূলত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৯-এর অংশ ছিল, তার সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো রহিত হয়ে যাবে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে—ওই অর্ডিন্যান্সের একটি ধারার অধীনে জারি করা র্যাব সংক্রান্ত বিচার পদ্ধতি ও বিভাগীয় কার্যধারার বিধিমালা বহাল থাকবে। এর অর্থ, বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে চলমান কোনো বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া নতুন আইনের কারণে থমকে যাবে না, বরং তা যথারীতি চলবে।
এ ছাড়াও আইনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, র্যাবের সংশ্লিষ্ট সব জনবল, প্রশাসনিক আদেশ, ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা, তহবিল, নগদ অর্থ ও ব্যাংকে রক্ষিত অর্থ, দায়দেনা, বিভিন্ন চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এবং যাবতীয় হিসাবের বই, রেজিস্টার ও দাপ্তরিক দলিলপত্র এখন থেকে সরাসরি নতুন গঠিত এসআরবির অধীনে হস্তান্তরিত হবে।
এই নতুন ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয় গত সপ্তাহে, যখন বিরোধী দলের আপত্তি সত্ত্বেও জাতীয় সংসদে এসআরবি গঠনের বিল পাস হয়। বিল পাসের কয়েকদিনের মধ্যেই এবার তার আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করল সরকার, যার মধ্য দিয়ে আইনগতভাবে র্যাবের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স সংশোধনের মাধ্যমেই র্যাব গঠনের আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। তবে দায়িত্ব পালনকালে নানা কর্মকাণ্ডের কারণে বাহিনীটি ক্রমেই দেশে-বিদেশে সমালোচনার মুখে পড়ে।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগে জাতিসংঘ, গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এবং দেশি-বিদেশি একাধিক মানবাধিকার সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে এই বাহিনী বিলুপ্তির সুপারিশ করে আসছিল। এমনকি এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সরকার র্যাব এবং বাহিনীটির তৎকালীন ও সাবেক সাতজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
দীর্ঘ এই বিতর্কের পরিসমাপ্তি টেনে এখন র্যাবের সব সম্পদ, জনবল ও কাঠামো নতুন নামে নতুন একটি ইউনিটে রূপান্তরিত হলো, যদিও কাঠামোগত দিক থেকে দেখলে বিলুপ্ত বাহিনীর প্রায় সবকিছুই নতুন আইনের মাধ্যমে অক্ষত রেখে দেওয়া হয়েছে।

