জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায় বড় ধরনের সংশোধন এনেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার কমিশন সচিবালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, প্রতীকের তালিকা থেকে সাময়িকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে পরিচিত ‘নৌকা’ প্রতীকটি। পাশাপাশি প্রার্থীদের হলফনামা জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও আনা হয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর একটি অনুচ্ছেদে দেওয়া ক্ষমতার সূত্র ধরে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮-এর একটি বিধির উপবিধি সংশোধন করা হয়। এতে বলা হয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের এখন থেকে স্থগিত প্রতীক ব্যতীত অনুমোদিত তালিকার যেকোনো একটি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া যাবে, প্রাপ্যতা অনুযায়ী।
কমিশনের নির্ধারিত প্রতীকের দীর্ঘ তালিকায় রয়েছে ফল, ফুল, পাখি, পশু, যানবাহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের নানা প্রতীক—যেমন আম, আপেল, আনারস, গোলাপ, শাপলা, ঈগল, ময়ূর, হাতি, ঘোড়া, রিকশা, সাইকেল, মোটরগাড়ি, ট্রাক, রেল ইঞ্জিন, হেলিকপ্টার থেকে শুরু করে চশমা, কলম, কাঁচি, দাঁড়িপাল্লা, তালা, ধানের শীষের মতো অনেক পরিচিত প্রতীক। একক প্রার্থীর ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে ‘না’ প্রতীকও। তবে তালিকায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, ‘নৌকা’ প্রতীক এই মুহূর্তে স্থগিত অবস্থায় থাকবে।
হলফনামার শর্তেও এসেছে বড় পরিবর্তন। এখন থেকে প্রার্থীর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের আয়করসংক্রান্ত তথ্য জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, বরং তা ঐচ্ছিক হিসেবে বিবেচিত হবে। এর আগে এই তথ্য দেওয়া সবার জন্য আবশ্যক ছিল। একইভাবে হলফনামার একটি অংশে আগে যা যা সংযুক্ত করতেই হতো, তা-ও এখন ঐচ্ছিক করে দেওয়া হয়েছে।
সংশোধনীতে ‘অভিযুক্ত’ শব্দটির একটি স্পষ্ট সংজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, আদালত যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ বা চার্জ গঠন করেছেন, তাঁকেই অভিযুক্ত বলে গণ্য করা হবে। এ ছাড়া ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি জামিনে থাকলে আদালতের সত্যায়িত জামিননামা জমা দেওয়ার শর্তেও কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। যাঁরা কারাগারে আছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সত্যায়িত করার সুযোগও বহাল রাখা হয়েছে।
নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব রাখার ক্ষেত্রেও একটি সংযোজন আনা হয়েছে। এখন থেকে প্রার্থীর ব্যাংক হিসাব নম্বরের পাশাপাশি তাঁর নিয়োজিত নির্বাচনি এজেন্টের ব্যাংক হিসাব নম্বরও মনোনয়নপত্রের ঘোষণায় উল্লেখ করতে হবে।
নির্বাচন-সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সংশোধনগুলো আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও প্রতীক বরাদ্দে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। প্রতীক নিয়ে সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক দিক থেকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, কারণ দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত এই প্রতীকটি এখন কার্যত নির্বাচনের মাঠে অনুপস্থিত থাকবে। অন্যদিকে হলফনামায় শর্ত শিথিল হওয়ায় প্রার্থীদের জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব পরিবর্তন প্রকৃতপক্ষে নির্বাচনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আগামী দিনে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-পর্যালোচনা হতে পারে।

