নতুন আইনি কাঠামোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করল বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন। গত মঙ্গলবার সরকার প্রণীত সংশ্লিষ্ট আইনের গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পরদিনই, বুধবার বিকেলে বাহিনীর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই যাত্রার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন বাহিনীর নবনিযুক্ত মহাপরিচালক।
অনুষ্ঠানে সদর দপ্তরে উপস্থিত সদস্যদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত সব ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি যুক্ত হন। বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মহাপরিচালক তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, নতুন আইনের আলোকে বাহিনীর প্রতিটি অভিযান পরিচালিত হতে হবে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মধ্য দিয়ে। কোনো কার্যক্রমেই এই দুটি মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হওয়ার সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ার করে দেন।
আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক ছিল বাহিনীর পরিচিতিগত রূপান্তর। মহাপরিচালক জানান, নতুন আইন অনুসারে বাহিনীর লোগো, পতাকা এবং সদস্যদের পোশাকেও পরিবর্তন আনার প্রক্রিয়া এখন চলমান রয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো এখনো সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে, অনুমোদন মিললেই দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। অর্থাৎ প্রতীকী দিক থেকে বাহিনীটি এখন এক রূপান্তরের মুখে দাঁড়িয়ে আছে—আইনি স্বীকৃতির পর এবার আসছে দৃশ্যমান পরিচয়ের পরিবর্তনও।
দায়িত্বের প্রশ্নে মহাপরিচালক সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান, তাঁরা যেন ন্যায়নিষ্ঠা, সততা ও দেশপ্রেমকে সামনে রেখে কাজ করেন। তাঁর বক্তব্যের একটি বড় অংশ ছিল জনআস্থা অর্জনের বিষয়ে। তিনি মনে করিয়ে দেন, শুধু জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা বা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করাও বাহিনীর জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমেই এই আস্থা অর্জন সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আনুষ্ঠানিক এই সূচনা উপলক্ষে বুধবার আসরের নামাজের পর বাহিনীর সদর দপ্তরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এতে নবগঠিত এই বাহিনীর সার্বিক কল্যাণ এবং আগামী দিনে দেশের সেবায় সাফল্য কামনা করা হয়।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, একটি বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটকে সম্পূর্ণ নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে আনার এই উদ্যোগ শুধু প্রশাসনিক পুনর্গঠন নয়, বরং বাহিনীর জবাবদিহি ও কার্যপরিধি স্পষ্ট করার একটি প্রয়াস হিসেবেও দেখা যেতে পারে। লোগো-পতাকা-পোশাকের মতো প্রতীকী পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে তা বাহিনীর নতুন পরিচয় জনসাধারণের কাছে আরও দৃশ্যমান করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

