বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আকাশ যোগাযোগ আরও সহজ করতে ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে এই রুট চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বুধবার সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে এক বৈঠকে বিমান চলাচল, উড়োজাহাজ সংগ্রহ, বিনিয়োগ এবং পর্যটন খাত নিয়ে আলোচনা করেন মন্ত্রী। বৈঠক শেষে তিনি জানান, দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন প্রশাসনের আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা মূল্যায়নে ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বাংলাদেশের এই উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। বিমান মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের বিমান চলাচল সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে প্রবাসী বাংলাদেশি, ব্যবসায়ী, পর্যটক এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রগামী যাত্রীদের অধিকাংশকেই মধ্যবর্তী কোনো দেশের বিমানবন্দর ব্যবহার করতে হয়। সরাসরি রুট চালু হলে যাত্রার সময় কমার পাশাপাশি ভ্রমণ আরও সহজ হবে।
বৈঠকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের জন্য ইতোমধ্যে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গত এপ্রিল মাসে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চুক্তির আওতায় আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ কেনা হবে।
চুক্তি অনুযায়ী উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা ২০৩১ সালের নভেম্বর থেকে এবং তা চলবে ২০৩৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত।
এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর আরও বড় করার জন্য অতিরিক্ত ২১টি বোয়িং ও এয়ারবাস উড়োজাহাজ সংগ্রহের বিষয়ে নতুন চুক্তির প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিমান পরিবহন খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার একটি দীর্ঘমেয়াদি বিমান চলাচল পরিকল্পনা বা মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজ করছে বলেও জানান মন্ত্রী। তার মতে, উন্নত আকাশ যোগাযোগ ব্যবস্থা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য এবং পর্যটন খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আধুনিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিমান চলাচল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বগুড়ায় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বিমান চলাচল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন খাতে আগ্রহ রয়েছে।
পর্যটন খাত নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্থানকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তর করতে সরকার বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে এটি শুধু একটি নতুন বিমান রুট নয়, বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে। তবে রুটটি সফলভাবে চালুর জন্য বিমান নিরাপত্তার আন্তর্জাতিক মান পূরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন হবে।

