অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার যাবতীয় দুর্নীতি ও লুটপাটের গডফাদার হচ্ছেন ড. ইউনূস বলে মন্তব্য করেছেন রাজনীতিবিদ ও সাবেক ছাত্রনেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর। সম্প্রতি তিনি এক টক শোতে এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া যদি ১২-১৩ হাজার বা ১৪ হাজার কোটি টাকা পাচার করে থাকেন, তাহলে এই চোরের পৃষ্ঠাপোষক কে? তার যাবতীয় দুর্নীতি ও লুটপাটের গডফাদার হচ্ছেন ড. ইউনূস।
মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর বলেন, ওখানে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে ছিলেন সবচেয়ে সিনিয়র অ্যাডভাইজার হাসান আরিফ। হাসান আরিফ এর আগের গভারমেন্টে উপদেষ্টা ছিলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন।
তার নামে আর্থিক দুর্নীতির কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সেই হাসান আরিফকে ওখান থেকে সরিয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে এখানে পদায়িত করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এর কয়েক দিন পর হাসান আরিফ হাইকোর্টে গিয়েছিলেন। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, স্যার, আপনাকে একটা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় থেকে এখানে দিল কেন? তখন তিনি বলেছিলেন, আমার তো এক হাজার কোটি টাকা দেওয়ার সামর্থ্য নেই।
ছেলেপেলেদের দলের জন্য এক হাজার কোটি টাকা দিতে বলেছে ড. ইউনূস। আমি তো পারব না। তখন ওনাকে এখান থেকে সরিয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে এখানে দেওয়া হয়।
মোশাররফ আহমেদ আরো বলেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে এখানে দেওয়ার পরপরই এলজিআরডি সচিবকে পরিবর্তন করা হয়। যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে তিন শ কোটি টাকা দিতে হবে।
কিন্তু ওই ভদ্রলোক দেড় শ কোটি টাকা দেন। তারপর যখন ওনি পারতেছেন না তখন ওনাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আমার কথা হলো, হাসান আরিফের জায়গায় যে আসিফ মাহমুদকে দেওয়া হলো এটা কি ড. ইউনূসের জানার বাইরে হয়েছে? ড. ইউনূসের এন্ডোর্সমেন্ট ছাড়া হয়েছে? ড. ইউনূস ছাড়া আর কোনো ব্যক্তি মন্ত্রণালয় পরিচালনার ক্ষমতা রাখতেন?
তিনি বলেন, আমি একটা কথা বলছি, এখানে সবচেয়ে বেশি লুটপাট চালিয়েছে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আর আসিফ মাহমুদের পর সবচেয়ে বেশি যে লুটপাট চালিয়েছে, সে হচ্ছে মাহফুজ আলম। এই দুজন যদি চোর হয়, দুই চোরের সর্দার কে? দুই চোরের সর্দার হচ্ছে ড. ইউনূস। আমি আবার বলছি, আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমের সর্দার হচ্ছে ড. ইউনূস। ড. ইউনূসের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশে এই ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে।
মোশাররফ আহমেদ বলেন, আমি বলব, আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম, এই দুজনের মন্ত্রণালয়ের দুজন সচিব এবং দুজনের দুই পিএসকে অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনেন। ড. ইউনূসকে আইনের আওতায় আনেন। ড. ইউনূসের যারা মুরব্বি ছিলেন, যারা তাকে প্রমোট করতেন, আন্তর্জাতিক লগ্নি পুঁজির যারা মালিক, আন্তর্জাতিক লগ্নি পুঁজির প্রভুদের সাথে আলোচনা করে আমরা ড. ইউনূসকে আইনের আওতায় আনতে চাই।

