নতুন বেতন কাঠামোতে পুলিশের কনস্টেবলদের বাড়িভাড়া ভাতার নতুন হার ঠিক করা হয়েছে। সরকারি বাসস্থান না পেয়ে ব্যারাকে থাকা বিবাহিত কনস্টেবলরা মূল বেতনের ৪০ শতাংশ হারে ভাতা পাবেন। অবিবাহিত কনস্টেবলরা পাবেন ২০ শতাংশ। তবে এই হার কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। এসব বিধান রয়েছে গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত “চাকরি (বাংলাদেশ পুলিশ) (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬”-এ।
গেজেট অনুযায়ী, সরকারি বাসস্থান বরাদ্দ পাননি এবং ব্যারাকেও থাকেন না, এমন বিবাহিত কনস্টেবলদের ভাতা নির্ভর করবে কর্মস্থল ও বেতন গ্রেডের ওপর। গ্রেড-২০-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১৬-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত কনস্টেবলরা পাবেন:
- ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৬০ শতাংশ
- নির্ধারিত অন্যান্য সিটি করপোরেশন এবং সাভার ও কক্সবাজার পৌর এলাকায় ৫০ শতাংশ
- অন্যান্য স্থানে ৪৫ শতাংশ
গ্রেড-১৫-এর সর্বনিম্ন ধাপ থেকে গ্রেড-১০-এর সর্বোচ্চ ধাপ পর্যন্ত হার:
- ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫০ শতাংশ
- অন্যান্য বড় শহর ও পৌর এলাকায় ৪৫ শতাংশ
- অন্যান্য স্থানে ৪০ শতাংশ
ব্যারাকে থাকা কনস্টেবলদের জন্য আলাদা বিধান আছে। সরকারি বাসস্থান না পেয়ে ব্যারাকে থাকা বিবাহিত কনস্টেবলরা পাবেন ৪০ শতাংশ। অবিবাহিতরা পাবেন ২০ শতাংশ।
নতুন হার সঙ্গে সঙ্গে চালু হচ্ছে না। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কনস্টেবলরা ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে অঙ্কে ভাতা পেতেন বা পাওয়ার অধিকারী ছিলেন, সেই হারেই পাবেন। নতুন কাঠামো শুরু হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অন্য পুলিশ কর্মচারীদের জন্য হার হবে এমন (ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, অন্যান্য নির্ধারিত শহর ও পৌর এলাকা, অন্যান্য স্থান, এই ক্রমে):
- গ্রেড-২০ থেকে ১৫: ৬০, ৫০ ও ৪৫ শতাংশ
- গ্রেড-১৪ থেকে ১০: ৫০, ৪০ ও ৩৫ শতাংশ
- গ্রেড-৯ থেকে ৫: ৪৫, ৩৫ ও ৩০ শতাংশ
- গ্রেড-৪ থেকে ১ ও তদূর্ধ্ব: ৪০, ৩০ ও ২৫ শতাংশ
সরকারি বাসস্থানে থাকা কর্মচারীরা বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন না। যাঁরা সরকারি বিধি অনুযায়ী ভাড়াবিহীন সরকারি বাসস্থানের অধিকারী, তাঁরাও পাবেন না।
তবে জনস্বার্থে কর্মস্থলে বা কাছাকাছি মেস, হোস্টেল, বিশ্রামাগার, ডরমিটরি বা ডাকবাংলোয় একক সিট বা কক্ষ দেওয়া হলে তা সরকারি বাসস্থান বরাদ্দ ধরা হবে না। ফলে ওই কর্মচারী ভাতা পাবেন, তবে সিট বা কক্ষের নির্ধারিত ভাড়া ও অন্যান্য আর্থিক দায় তাঁকেই বহন করতে হবে।
একইভাবে সরকার ঘোষিত অস্থায়ী আবাসন, যেমন গুদামঘর, কুঁড়েঘর, মালগাড়ির বগি, স্টিমার বা লঞ্চের বার্থে থাকার ব্যবস্থা হলেও কর্মচারী ভাতা পাবেন। এ ক্ষেত্রেও নির্ধারিত ভাড়া তাঁকে দিতে হবে।
নতুন কাঠামোয় ব্যারাকে থাকা কনস্টেবলদের জন্য বিবাহিত ও অবিবাহিতের মধ্যে ভাতার হারে দ্বিগুণ ব্যবধান রাখা হয়েছে। এর যুক্তি গেজেটের বর্ণনায় নেই। আবার নতুন হারের জন্য ২০২৮ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, অর্থাৎ প্রায় সোয়া দুই বছর। একই কারণে সরকারি বেতন কাঠামোর অন্যান্য ভাতাও ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা। এই বিশ্লেষণ প্রতিবেদনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা।

