একটি ফোনের লোভে শিশুহত্যা, ক্যাম্পাসের পাশে অরক্ষিত জঙ্গল আর প্রতিশ্রুতির পুরোনো চক্র: প্রশ্ন এখন আমাদের নিরাপত্তা-ব্যবস্থার দিকে।
শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বেরিয়েছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতিম। সে আর বাসায় ফেরেনি। প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশের ঝোঁপে পাওয়া গেল তার মরদেহ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতেই এই হত্যা।
একটি ফোনের দাম কত?
একটি শিশুর প্রাণ যদি একটি ফোনের সমান হয়ে যায়, তাহলে “নিরাপদ জনপদ” কথাটা আমরা কার জন্য বলছি?
ক্যাম্পাসের গা ঘেঁষেই অরক্ষিত জঙ্গল
জ্ঞানচর্চার চত্বরের এত কাছে এমন জঙ্গল, যেখানে একটি শিশুকে হত্যা করে ফেলে রাখা যায়। শিক্ষকের সন্তানই যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে নিরাপদ না থাকে, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার গল্প শুনে হাসব, না কাঁদব?
মোবাইল ছিনতাইকে আমরা বছরের পর বছর “ছোটখাটো অপরাধ” বলে পাশ কাটিয়েছি। আজ সেই “ছোট” অপরাধই একটি ফুটফুটে কিশোরের প্রাণ কেড়ে নিল।
নির্দেশ নয়, চাই আগাম উপস্থিতি
ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য পুলিশকে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও আটকের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ দেওয়া সহজ, প্রতি সন্ধ্যায় টহল দেওয়া কঠিন। প্রতিটি হত্যার পর আমরা একই বাক্য শুনি: “তদন্ত চলছে”, “কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না”। এই প্রতিশ্রুতি অপরাধের আগে কেন দেখা যায় না?
বিচার হোক দৃশ্যমান
আইনের শাসন মানে কেবল বইয়ের ধারা নয়। এর মানে একটি শিশুর বিকেলে ছবি তুলতে বেরিয়ে নির্ভয়ে ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা। এ ঘটনায় এক সন্দেহভাজন তরুণকে আটক করা হয়েছে। তিনি দোষী কি না, তা আদালত ঠিক করবে। কিন্তু আটকের খবর যেন প্রেস ব্রিফিংয়েই ফুরিয়ে না যায়, বিচার যেন ফাইলের স্তূপে চাপা না পড়ে।
যা এখনো ফেরানো সম্ভব
মায়ের ফোনটি এখনো মেলেনি। মিললেও কী আসে যায়? ছেলেটিকে তো আর ফেরানো যাবে না। এখনো যা ফেরানো সম্ভব, তা হলো ন্যূনতম নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি: ক্যাম্পাস-সংলগ্ন নির্জন এলাকায় নিয়মিত টহল, পর্যাপ্ত আলো, নজরদারি, আর ছিনতাই ও মাদকচক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান।
প্রশ্ন একটাই- এ প্রতিশ্রুতি কে দেবে, আর কবে?

