সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়ে তাতে কিছু বলা হয়নি। ফলে সরকারি বেতনস্কেলের সঙ্গে তাঁদের বেতন কীভাবে সমন্বয় হবে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
“চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬” অনুযায়ী চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে বেতন বৃদ্ধির একটি অংশ কার্যকর হচ্ছে। ২০২৭ সালের জুলাই থেকে পাওয়া যাবে শতভাগ বেতন। পেনশনভোগীরাও ধাপে ধাপে বর্ধিত নিট পেনশন পাবেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-১ অনুবিভাগ বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, এই প্রজ্ঞাপন জারি করে। পরে তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। এর আগে গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভা নবম বেতন কাঠামোর প্রস্তাব অনুমোদন দেয়।
শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ৩ লাখ ৯৮ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী আছেন। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে আছেন প্রায় পৌনে ২ লাখ। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে আছেন ২৩ হাজারের বেশি। অর্থাৎ প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার মানুষ এই অনিশ্চয়তার মধ্যে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এত দিন মূল বেতনের সঙ্গে মাসে ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পেতেন। সাম্প্রতিক আন্দোলনের মুখে সরকার বাড়িভাড়া বাড়িয়ে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেয়। এটি দুই ধাপে কার্যকর হয়েছে। প্রথম ধাপে সাড়ে ৭ শতাংশ, তবে ন্যূনতম ২ হাজার টাকা, ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে। বাকি সাড়ে ৭ শতাংশ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে।
নতুন প্রজ্ঞাপনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য ভাতা নতুন কাঠামোর সঙ্গে কীভাবে মেলানো হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। তাই তাঁরা নতুন বেতনস্কেলের সুবিধা পাবেন কি না, পেলেও কবে ও কীভাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সরকারি কর্মচারীরা যখন ধাপে ধাপে বাড়তি বেতন পাচ্ছেন, তখন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাদ পড়ার আশঙ্কা তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করতে পারে। বিষয়টি আগেও আন্দোলনের কারণ হয়েছিল। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা অর্থ বিভাগ এ নিয়ে কোনো বক্তব্য দিয়েছে কি না, প্রতিবেদনে তা নেই। আলাদা প্রজ্ঞাপন আসবে কি না, এবং এলে বর্ধিত বেতন কত ও কবে থেকে কার্যকর হবে, সেই প্রশ্নের উত্তরও অনিশ্চিত। এই বিশ্লেষণ প্রতিবেদনের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা।

