বাংলাদেশে মাছ, মাংস ও ডিমের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রাণিখাদ্যের ব্যবহারও দ্রুত বাড়ছে। আগামী চার বছরে দেশে প্রাণিখাদ্যের বার্ষিক চাহিদা আরও ২৫ লাখ টন বাড়তে পারে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই চাহিদা ১ কোটি টনে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। বর্তমানে দেশে বছরে প্রায় ৭৫ লাখ টন প্রাণিখাদ্যের চাহিদা রয়েছে। গবেষণার হিসাবে ২০৩০ সালে সম্ভাব্য ১ কোটি টন চাহিদার মধ্যে ৬৫ শতাংশ ব্যবহার হবে পোলট্রি খাতে। মাছ চাষে লাগবে ২০ শতাংশ এবং গবাদিপশুর জন্য ব্যবহার হবে বাকি ১৫ শতাংশ।
‘প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে খাদ্যশিল্পের বিকাশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। রাজধানীর ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে বাংলাদেশ ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন ও ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
দেশের মাছ ও পোলট্রি খাদ্যশিল্পে প্রাণীর বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য সরবরাহ করা হয়। ধানের কুঁড়া, ভুট্টা, সয়াবিনের খৈল, মাছের গুঁড়া এবং স্থানীয়ভাবে পাওয়া বিভিন্ন উপাদান এসব খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
তবে দেশে প্রাণিজ আমিষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু কম দামে খাদ্য উৎপাদন করাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী পুষ্টি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মো. শফিকুর রহমান শিশির।
তিনি বলেন, সবচেয়ে সস্তা প্রাণিখাদ্য ব্যবহার করলেই যে প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনের খরচ সবচেয়ে কম হবে, এমনটা নয়। বরং খাদ্য কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করে মাছ, মাংস ও ডিম উৎপাদন করা যাচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
সেমিনারে বাংলাদেশে ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের বাজারবিষয়ক কর্মকর্তা খাবিবুর রহমান বলেন, দেশে সয়াবিনকে ঘিরে একটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন ও ব্যবহারব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। সয়াবিন থেকে তেল উৎপাদনের পাশাপাশি তা প্রক্রিয়াজাত করে প্রাণিখাদ্যের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সয়াবিনের খৈল তৈরি করা হয়।
খাতটির উন্নয়নে ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল বিভিন্ন কারিগরি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করে এবং শিল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে কাজ করছে।
খাবিবুর রহমান বলেন, প্রাণীর স্বাস্থ্য ভালো রাখার ওপর জোর দিলে মানুষের খাবারের মানও উন্নত হবে। এর ফলে মানুষ আরও নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর প্রাণিজ খাদ্য পাওয়ার সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশে মানুষ যে প্রাণিজ আমিষ গ্রহণ করে, তার প্রায় ৬০ শতাংশ আসে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী থেকে। এই সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে দেশের মাছচাষি ও জলজ প্রাণী উৎপাদনকারীদেরও বিভিন্ন ধরনের কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সুস্থ ও পুষ্টিসম্পন্ন জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে প্রাণিজ আমিষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর নিরাপদ ও মানসম্মত প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনের ভিত্তি হলো ভালো মানের প্রাণিখাদ্য।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহ আলম খান বলেন, পোলট্রি ও গবাদিপশু উৎপাদনে মোট খরচের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশই প্রাণিখাদ্যের পেছনে ব্যয় হয়।
ফলে দেশে মাছ, মাংস ও ডিমের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রাণিজ আমিষের দাম ও উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রাণিখাদ্যের মান, কার্যকারিতা ও উৎপাদনব্যবস্থা আরও উন্নত করার প্রয়োজন রয়েছে।

