সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ জন। রোববার সন্ধ্যায় এস সুহি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের ভেতরে প্রীতি গ্রুপের একটি কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে একটি কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার নামানোর সময় বিস্ফোরণ ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিস্ফোরণের পরপরই কারখানায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
কাভার্ড ভ্যানের ভেতর পাঁচজনের লাশ
রাতে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা-৪-এর উপসহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান প্রথমে ছয়জন নিহত হওয়ার তথ্য জানান।
তিনি বলেন, কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাস সিলিন্ডার আনলোড করার সময় বিস্ফোরণটি ঘটে। বিস্ফোরণের পর কারখানার বাইরে একজন নারীর এবং কাভার্ড ভ্যানের ভেতর আরও পাঁচজনের মরদেহ পাওয়া যায়।
তবে তখন পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।
পরে আহতদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন নজরুল ইসলাম (৩৫) নামে এক সবজি ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। ফলে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় সাতজনে।
চারজনকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেলে
অগ্নিকাণ্ডে আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান নজরুল ইসলামের মৃত্যুর তথ্য জানান।
তিনি বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় নজরুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। বাকি তিনজনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া অন্য তিন আহত হলেন মোখলেছুর রহমান (৪৫), তাঁর ছেলে সুজন মিয়া (১৮) এবং নুরুল ইসলাম (৪০)।
এদিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার নারী ও শিশু হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের পর ১৬ জনকে নেওয়া হয়। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশিদ জানান, তাঁদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পরপর বিস্ফোরণে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথম বিস্ফোরণের পর কারখানা এলাকায় একের পর এক বিকট শব্দ শোনা যায়। দূর থেকেও আগুনের কুণ্ডলি দেখা যাচ্ছিল। কারখানার ভেতরে তিনটি কাভার্ড ভ্যানে গ্যাস সিলিন্ডার রাখা ছিল বলে তাঁরা জানান।
বিস্ফোরণের শব্দে কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কারখানার জানালা ও দরজার কাচ ভেঙে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে শ্রমিকেরা একযোগে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরপর বিস্ফোরণ ঘটতে থাকায় অনেকে সামনে এগোতে পারেননি।
কারখানার ফিনিশিং বিভাগের মাননিয়ন্ত্রণ শাখার পরিদর্শক রাকিব হোসেন বলেন, কাজ শেষ করার সময় তিনি হঠাৎ গ্যাস লিকেজের মতো শব্দ শুনতে পান। এর কিছুক্ষণ পরই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েকজন শ্রমিক আহত হন।
দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে
ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ফারুক হোসেন জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে ডিইপিজেড, জিরাবো মডার্ন ফায়ার স্টেশনসহ মোট ছয়টি ইউনিট কাজ করে।
প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টার পর রাত পৌনে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করেন।
ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর সোমেন বড়ুয়া বলেন, গার্মেন্টস চত্বরে একটি বড় কাভার্ড ভ্যান থেকে গ্যাসভর্তি সিলিন্ডার নামানোর সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার পর তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
গ্যাস সিলিন্ডার আনলোড করার সময় ঠিক কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

