মাত্র কুড়ি দিনের মাথায় বদলি হলেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নিয়ামত উল্ল্যা। ফেসবুকে তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে নানা পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পরই তাঁকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়, পরে ন্যস্ত করা হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে।
গত ১ সেপ্টেম্বর গৌরীপুরের এসি ল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব নেন নিয়ামত উল্ল্যা। এর আগে তিনি কর্মরত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে। তবে নতুন দায়িত্ব নেওয়ার তিন সপ্তাহও পূর্ণ হয়নি, এর মধ্যেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হলো।
গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমিন প্রথম আলোকে জানান, সরকারি জনস্বার্থ উল্লেখ করে তাৎক্ষণিকভাবে এই বদলির আদেশ জারি হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছিল। পরে জানা যায়, তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার নির্দেশ এসেছে। সন্ধ্যার মধ্যেই তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
তবে ঠিক কী কারণে এই আকস্মিক বদলি, তা স্পষ্ট করে বলতে পারেননি ইউএনও। তাঁর ভাষ্য, বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকেই।
জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু পোস্টে নিয়ামত উল্ল্যার বিরুদ্ধে অতীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলা হয়। তাঁর ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ছদ্মনামে ব্লগে লেখালেখি নিয়েও নানা দাবি সামনে আনা হয়েছে ওই পোস্টগুলোতে।
এ প্রসঙ্গে ইউএনও আফিয়া আমিন বলেন, তিনি নিজে নিয়ামত উল্ল্যার সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাকরিজীবনে তিনি একাধিকবার নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেছেন, আর সেই সময় তাঁর কর্মএলাকায় বিএনপির প্রার্থী বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেছিলেন। পাশাপাশি টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রীর একটি সফরকালে খাবার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও তাঁকে দেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগ দিয়ে সরকারি চাকরিজীবন শুরু করেন নিয়ামত উল্ল্যা। এরপর ২০২৪ সালের মে মাসে বদলি হন টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। চলতি বছরের জুন মাসে তিনি যোগ দেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে, আর সেপ্টেম্বরের শুরুতে দায়িত্ব নেন গৌরীপুরের এসি ল্যান্ড হিসেবে। তবে এই পদে তাঁর মেয়াদ দীর্ঘস্থায়ী হলো না।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রথম আলোকে বলেন, ফেসবুকে প্রকাশিত তথ্যের প্রেক্ষিতেই এই কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
মাঠপ্রশাসনের একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ভিত্তিতে এত দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার এই ঘটনা প্রশাসনের মধ্যে বাড়তি স্পর্শকাতরতার একটি নমুনা হিসেবে দেখছেন অনেকে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সরকারি কর্মকর্তাদের অতীত সম্পৃক্ততা নিয়ে যাচাই-বাছাই ও জবাবদিহির চাপ বাড়ছে বলেও মনে করছেন প্রশাসন-সংশ্লিষ্টরা। তবে অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত-সাপেক্ষ বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

