জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনকে ঘিরে নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের ব্যস্ততার মধ্যেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতের বিষয়টি বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হলেও সেখানে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক, আঞ্চলিক পরিস্থিতি বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
ড. খলিলুর রহমান এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। জুনে তিনি এ পদে নির্বাচিত হন। তাঁর সভাপতিত্বেই নিউইয়র্কে এবারের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের মূল আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এবারের অধিবেশনটি তাই বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
মঙ্গলবার থেকেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল পর্বের সাধারণ বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এই পর্বে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরছেন। উদ্বোধনী দিনের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ভাষণ দেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে তাঁর প্রথম ভাষণ হতে যাচ্ছে।
নিউইয়র্ক সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের একটি ৩৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল রয়েছে। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবির, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম। জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও কূটনৈতিক কর্মসূচিও রয়েছে।
জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতির দায়িত্বে থাকায় দেশটির কূটনৈতিক উপস্থিতিও আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। অধিবেশনের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ ও আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে খলিলুর রহমানের সাক্ষাৎ হওয়ায় ঘটনাটি বাংলাদেশের জন্যও কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ একটি যোগাযোগ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে সাক্ষাৎটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল, নাকি এর বাইরে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়েছে—এ বিষয়ে কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত বিস্তারিত জানায়নি।
এর আগে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে খলিলুর রহমান ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন। জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানিয়েছিলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে এবারের সাক্ষাতের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে সরকারি কোনো বিবরণ না আসা পর্যন্ত এ নিয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা সমঝোতার কথা বলা যাচ্ছে না। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ নিয়মিতই হয়ে থাকে।
এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যও সামনে রয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন জাতীয় ও বৈশ্বিক বিষয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরার কথা রয়েছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলোও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ফলে নিউইয়র্কে চলমান এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা একাধিক স্তরে এগোচ্ছে। একদিকে সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো সরকারপ্রধান হিসেবে সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে খলিলুর রহমানের সাক্ষাৎ বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যস্ততার আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে।

