কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সন্তান হত্যার ঘটনায় আসামিদের পক্ষে আদালতে না দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি জানিয়েছেন, মানবিক দিক বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র চাইলে নির্দিষ্ট কোনো আইনজীবীকে আসামিপক্ষের দায়িত্ব দিতে পারবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বাংলা বিভাগের এক সহযোগী অধ্যাপকের সন্তানের হত্যা মামলা নিয়েই মূলত এই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছিল। সেখানেই সরকারি কৌঁসুলি এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, নিহতের বাবা-মাকে সুষ্ঠু ও ন্যায্য বিচারের বিষয়ে আশ্বস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন সঠিক তদন্ত শেষে অপরাধীদের আদালতে সোপর্দ করা হয়। তার ভাষায়, তদন্তকাজ সঠিক পথেই এগোচ্ছে এবং শোকাহত পরিবারকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে। তিনি আরও জানান, কোনো আইনজীবী মামলা গ্রহণ না করলেও ন্যায়বিচারের স্বার্থে রাষ্ট্রই আসামিদের জন্য আইনজীবী নিয়োগ দেবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বাংলা বিভাগের এক শিক্ষার্থী নিহত তরুণকে স্মরণ করে বলেন, সে ছিল অত্যন্ত মিশুক স্বভাবের একজন মানুষ। তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের প্রকৃত বয়স নিয়ে একধরনের অস্পষ্টতা তৈরি করার চেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে। এর আগে ঘটে যাওয়া একটি আলোচিত হত্যা মামলার বিচার যেভাবে সম্পন্ন হয়েছিল, এই মামলাতেও একইভাবে দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে, একইভাবে তাদের কাছ থেকে জবানবন্দি আদায়ের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে সংশ্লিষ্টদের। তিনি সতর্ক করে বলেন, অভিভাবকত্বের দুর্বলতা বা পারিবারিক জটিলতাকে কাজে লাগিয়ে যেন কোনোভাবেই অপরাধী শাস্তি এড়াতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আগের একটি হত্যা মামলার বিচার যেভাবে সম্পন্ন হয়েছিল, এই মামলারও যেন একই ধারায় দ্রুত নিষ্পত্তি হয়—এমন প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সমিতির সাবেক সভাপতি এবং অন্যান্য সিনিয়র আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও এতে অংশ নেন।
ঘটনার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শোক ও ক্ষোভের আবহ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জোরালো হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়।

