রাজধানীর বারিধারায় ফুটপাতে গাড়িচাপায় নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিমের (২৪) মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি নিহতের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকায় আপস-মীমাংসার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারকের আদালতে অভিযুক্ত কিশোরকে হাজির করা হলে আসামিপক্ষের আইনজীবী এই আপস-মীমাংসার তথ্য জানান।
দুপুরে অভিযুক্তকে আদালতে আনার পর শুনানি শুরুর আগেই আইনজীবী সাংবাদিকদের জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে ৯ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়েছে। আপসনামায় উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, নিহতের দাফন-কাফন ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার খরচ বাবদ এক লাখ টাকা এবং তার বয়োবৃদ্ধ মা-বাবার ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে বাকি আট লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
আপসনামায় আরও বলা হয়েছে, নিহতের পরিবার পূর্ণ ৯ লাখ টাকা গ্রহণ করেছে এবং প্রচলিত আইন ও আদালতের নিয়ম অনুসরণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি বা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত কিশোর ও গাড়িচালকের জামিন সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে উপস্থিত থেকে কোনো আপত্তি না জানানোর অঙ্গীকারও এই আপসনামায় রয়েছে। তবে এতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, মামলাটির নিষ্পত্তি হবে আদালতের এখতিয়ার ও প্রচলিত আইনের সীমার মধ্যেই।
উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে গুলশান থানা এলাকার বারিধারা কূটনৈতিক অঞ্চলের একটি সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি প্রাইভেট কার ফুটপাতে উঠে গিয়ে সেখানে অবস্থানরত নির্মাণ শ্রমিক মেহেদী হাসান মিমকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ধরনের আপস-মীমাংসার ঘটনা সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির মামলাগুলোতে বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি প্রচলিত দিক হলেও এ নিয়ে আইনি ও সামাজিক পর্যায়ে নানা প্রশ্ন থেকে যায়—বিশেষ করে অর্থের বিনিময়ে ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তির প্রবণতা প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে কি না, তা নিয়ে আলোচনা রয়েছে বিশ্লেষকদের মধ্যে।

