গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি চারতলা ভবনের সেপটিক ট্যাংকে বিস্ফোরণে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার রাতে আউচপাড়া মোল্লাবাড়ির অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সঞ্চিতা মতির চারতলা বাড়ির নিচ তলায় এ ঘটনা ঘটে। তারপর থেকে আশপাশের বাড়ির বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
নিহতের নাম হাবিবুল্লাহ (১৯)। এ ঘটনায় নিহতের বোন জান্নাতি হাবিবা (১৩) আহত হয়েছেন। হাবিবুল্লাহ নরসিংদীর একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করতেন। তিনি পরিবারের সাথে আউচপাড়ার মোল্লাবাড়ি এলাকার ওই বাসায় ভাড়া থাকতেন। হাবিবুল্লাহ শরীয়তপুর জেলার সখিপুর থানার বাহেরচর কদমতলী গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। তারা পরিবার নিয়ে ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
বিস্ফোরণের পর তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
ভাড়াটিয়ারা জানা যায় যে, রোববার রাত পৌণে ১০টার দিকে হঠাৎ সঞ্চিতা মিতার চারতলা বাড়ির নিচতলায় সেফটিক ট্যাংকি বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। ফলে কক্ষের ওয়াশরুমসহ তিনটি রুমের দেয়াল ভেঙ্গে পড়ে। সেই সময় সময় কক্ষে থাকা হাবিবুল্লাহ ও তার বোন জান্নাতি হাবিবা আহত হন। পড়ে ভাড়াটিয়ারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গুরুতর আহত হাবিবুল্লাহকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। আহত জান্নাতিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শাহিন আলম জানায় যে, সেপটিক ট্যাংকের বাইপাস লাইন না থাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণে ওই বাড়ির নিচ তলার তিনটি কক্ষ ভেঙ্গে তছনছ হয়ে গেছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইস্কান্দার হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তবে কেউ যদি গাফিলতির অভিযোগ করেন, তবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

