জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ৮টা ২০ মিনিটে তাকে বহনকারী উড়োজাহাজ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ এই অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফর শেষ হলো।
সফরকালে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বিভিন্ন অগ্রাধিকার ও অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এসব আলোচনায় শান্তি, গণতন্ত্র, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, মানবিক বিষয় এবং টেকসই উন্নয়নসহ বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় গুরুত্ব পায়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফেরার পথে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ছয় ঘণ্টার যাত্রাবিরতি করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর স্থানীয় সময় রাত ২টায় তাকে বহনকারী এমিরেটস এয়ারলাইনসের নিয়মিত উড়োজাহাজটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। দীর্ঘ যাত্রা শেষে রোববার সকালে ঢাকায় পৌঁছান তিনি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের বিভিন্ন অগ্রাধিকার তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে। অধিবেশনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শান্তি ও গণতন্ত্রের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর স্বার্থ, মানবিক বিষয় এবং টেকসই উন্নয়নের মতো ইস্যুগুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরাও একত্রিত হন। ফলে আনুষ্ঠানিক অধিবেশনের বাইরে দ্বিপক্ষীয় ও পার্শ্ববৈঠকের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রও তৈরি হয়।
প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। অধিবেশনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে বসেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং বিদ্যমান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রেও এ ধরনের বৈঠকের গুরুত্ব রয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো, সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করা এবং বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয় এসব আলোচনার মাধ্যমে।
বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর স্বার্থ, পরিবেশগত নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের বিষয় আন্তর্জাতিক আলোচনায় বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে আসে। জাতিসংঘের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে এসব বিষয় তুলে ধরার ফলে বাংলাদেশের অবস্থান ও প্রত্যাশাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়।
শান্তি ও গণতন্ত্রও এবারের সফরে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক শাসনব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরার মাধ্যমে বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন অগ্রাধিকারও তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে।
এ ছাড়া মানবিক বিষয় এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা, অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সামাজিক ও পরিবেশগত বিষয়গুলোর সমন্বয় এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা এসব আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সফরজুড়ে বিভিন্ন বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশগ্রহণ শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ ছিল না; এর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রও গুরুত্ব পেয়েছে।
সফর শেষে দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে এখন এসব আলোচনা ও যোগাযোগের ফলাফল বাস্তব ক্ষেত্রে কতটা এগিয়ে নেওয়া যায়, সেদিকেই নজর থাকবে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের যে অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে, সেগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশ ও সংস্থার সঙ্গে পরবর্তী সময়ে যোগাযোগ এবং সহযোগিতার কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বার্থ ও অগ্রাধিকার তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে সফরের আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষ হয়েছে। তবে সফরকালে বিভিন্ন রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যে যোগাযোগ তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

