বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হলেও আপাতত দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। আকাশ সাময়িকভাবে আংশিক মেঘলা থাকলেও দিন ও রাতের তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তবে আগামীকাল চট্টগ্রাম বিভাগের দু-একটি স্থানে দমকা হাওয়া অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দেশের কোথাও বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সন্দ্বীপ ও আমবাগানে ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে উত্তরের সীমান্তবর্তী এলাকা তেঁতুলিয়ায়, ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তাপমাত্রার এই পার্থক্য থেকে বোঝা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়ার অনুভূতিতে ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে আপাতত সার্বিকভাবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে আরও ঘনীভূত হতে পারে। এর প্রভাবে চলতি অক্টোবর মাসের শেষ দিকে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে লঘুচাপ সৃষ্টি হলেই যে সারা দেশে বৃষ্টি হবে, এমন নয়। এর প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা পরবর্তী সময়ে আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। তাই নতুন পূর্বাভাস ও সরকারি সতর্কবার্তার দিকে নজর রাখা জরুরি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি আবহাওয়া তথ্য সেবা ইউনিটের উপপরিচালক উর্মী আহসান জানিয়েছেন, সমুদ্রে লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়া একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। বর্তমানে কৃষকদের আগাম সতর্ক করার মতো বা আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
তিনি জানান, এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়া গেলে তা কৃষি আবহাওয়া তথ্য সেবা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিয়ে সরকার অনুমোদিত সংস্থার তথ্য অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ থাকলেও আপাতত দেশের অধিকাংশ এলাকায় শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। রোববার চট্টগ্রাম বিভাগের দু-একটি স্থানে বৃষ্টি হতে পারে এবং মাসের শেষ দিকে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুসরণ করাই সবচেয়ে ভালো।

