প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সফরের সাফল্য আড়াল করতে দেশে ভিন্ন ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী সত্যিই একটি শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশ গড়তে চান। তাই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে সবাইকে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রুমন জানান, নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়েছে। রাত পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থেকে কাজ করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সফরের সাফল্য আড়াল করার চেষ্টার অভিযোগ তুলে রুমন বলেন, দেশে ফেরার পর জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাফল্য নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ হবে, টক শোতে আলোচনা হবে, এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু ঠিক তখনই এমন সব ঘটনা ঘটানো হয়েছে, যার ফলে সব গণমাধ্যম সেসব ঘটনা নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এভাবে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের সাফল্য আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
তিনি আরও বলেন, পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকারের দেশ চালানোর যে সূত্র ছিল, সরকারের বিরোধী গোষ্ঠীও সেই মন্ত্রেই চলছে। সরকারের কার্যক্রমে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি একটি উদাহরণ দেন। তাঁর ভাষায়, কাউকে নদী পার হতে বলে তার হাত-পা বেঁধে দিলে সে নদী পার হতে পারবে না।
রুমন জানান, এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। কারণ দীর্ঘদিন পর দেশের নির্বাচিত সরকার জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে। সফরে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে পাঁচ দফা প্রস্তাব ও আলোচনা, জলবায়ু ন্যায়বিচার ও অর্থায়নের দাবি এবং বাংলাদেশের পুনর্গঠনে ‘থ্রি আর’ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে সরকারের অবস্থানও ব্যাখ্যা করা হয়। তবে এসব বিষয় কয়টি গণমাধ্যমে বিস্তারিত জায়গা পেয়েছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এসব অর্জন ম্লান করতে একটি গোষ্ঠী সংঘবদ্ধভাবে পরিকল্পিত কিছু অপকর্ম ঘটিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেন প্রেস সচিব। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি ভঙ্গুর অবস্থায় দেশের হাল ধরেছেন। তাই সরকারকে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। সবশেষে তিনি সবাইকে সরকারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
রুমনের এই বক্তব্যে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘটনা বা গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। কোন ঘটনাগুলোকে তিনি পরিকল্পিত বলছেন এবং কারা এর পেছনে রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য বা প্রমাণও তিনি সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেননি। ফলে অভিযোগটি এখনো সরকারের একটি রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। এ বিষয়ে বিরোধী পক্ষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা যুক্ত করা হবে।

