সাংবাদিকতার কারণে ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল হকের (মোজাম্মেল বাবু) বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সোমবার সংগঠনটির দক্ষিণ এশিয়া শাখার যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই আহ্বান জানানো হয়। দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি তাঁদের পেশাগত কাজ বলে সংগঠনটি মনে করে।
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঘটা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা হয়েছে। এই মামলায় ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল হক বর্তমানে গ্রেপ্তার আছেন। এর আগে একই মামলায় দুজন সাংবাদিকসহ মোট আটজন আসামিকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
অ্যামনেস্টির এই অবস্থান বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনায় এনেছে। সংগঠনটির বক্তব্যের মূল জায়গা হলো, সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ হতে পারে না এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য কাউকে ফৌজদারি মামলার আসামি করা উচিত নয়। তবে এটি সংগঠনটির নিজস্ব মূল্যায়ন। অভিযোগের সুনির্দিষ্ট বিবরণ বা মামলার নথির বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই। সরকার বা মামলার বাদী পক্ষের প্রতিক্রিয়াও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
মামলাটি গুরুতর প্রকৃতির। মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রমাণ করা বা খারিজ করার দায়িত্ব আদালতের। কোনো আসামি দোষী না নির্দোষ, তা বিচারিক প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে। তাই এ পর্যায়ে মামলার যৌক্তিকতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। অন্যদিকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার ভিত্তি কী, সেটি স্বচ্ছভাবে জানা জনস্বার্থেই জরুরি। কারণ এ ধরনের মামলায় সাংবাদিকের ভূমিকা প্রতিবেদন তৈরি ও প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, নাকি অন্য কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে, তা স্পষ্ট না হলে বিভ্রান্তি ও সন্দেহ তৈরি হয়।
গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা সবসময়ই সংবেদনশীল বিষয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাংবাদিকের লেখা, প্রতিবেদন বা মতামতের কারণে মামলা হলে তা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলে। এতে অন্য সাংবাদিকেরাও স্পর্শকাতর বিষয়ে কাজ করতে ভয় পেতে পারেন। আবার কোনো ঘটনায় সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় থাকলেও যদি অপরাধে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে, তাহলে তা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই হওয়াই স্বাভাবিক। এই দুই বিষয়ের পার্থক্য স্পষ্ট করার দায়িত্ব মূলত তদন্ত সংস্থা ও আদালতের।
এ অবস্থায় প্রশ্নটি দাঁড়িয়েছে দুটি জায়গায়। একদিকে অতীতের একটি ভয়াবহ ঘটনার বিচার ও জবাবদিহির দাবি, অন্যদিকে সেই বিচার প্রক্রিয়ায় পেশাগত স্বাধীনতা ও ন্যায্য আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি। দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। বিচার হবে, তবে তা যেন আইনের শাসন ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে হয়, এটাই এ ধরনের আলোচনায় বারবার উঠে আসে।
সামনের দিনগুলোতে মামলার অগ্রগতি, অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ এবং আদালতে আসামিদের আইনি সুযোগ কীভাবে নিশ্চিত হয়, সেদিকে নজর থাকবে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের। কর্তৃপক্ষ অ্যামনেস্টির আহ্বানে কী প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

