রাজধানীর মিরপুরে মেট্রোরেলের পিলারে নতুন করে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি আঁকার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ‘লেটস রিমেক জুলাই গ্রাফিতি’ নামের এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে শুক্রবার। উদ্বোধন করেন সংস্থাটির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম। নগরবাসীর অংশগ্রহণে পিলারগুলো সাজিয়ে তোলা হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবিও এসব গ্রাফিতিতে থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে নগরবাসীকে আহ্বান জানানো হয়েছে। যাঁরা অংশ নেবেন, তাঁদের রং, ব্রাশসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করবে করপোরেশন। অর্থাৎ উদ্যোগটি শুধু প্রশাসনের নয়, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক বলেন, কিছুদিন আগে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মেট্রোরেলের পিলার থেকে পোস্টার সরানো হবে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিশেষ করে ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের নেতাদের সহযোগিতায় নির্ধারিত সময়ের আগেই সেই কাজ শেষ হয়েছে। এরপর তিনি আরেকটি ঘোষণা দেন। সেটি ছিল, যাঁরা বাংলাদেশের ইতিহাস রচনায় আত্মত্যাগ করেছেন ও সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের স্মৃতি মানুষের মনে ধরে রাখতে জুলাইয়ের গ্রাফিতি পিলারে আবার স্থাপন করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি থেকেই এই আয়োজন।
প্রশাসকের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এমন একজন নেত্রী, যিনি সব রাজনৈতিক দল, বিরোধী পক্ষ ও সাধারণ মানুষের মনে বিশেষ জায়গা করে আছেন। তাঁর দাবি, জুলাই অভ্যুত্থানের পেছনে খালেদা জিয়ার অবদান সবচেয়ে বেশি। তাই এই আপসহীন নেত্রীর ছবিও মেট্রোরেলের পিলারে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জুলাই আন্দোলনে যাঁরা নেতৃত্ব দিয়েছেন, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সেই নেতাদের ছবিও গ্রাফিতির মাধ্যমে আঁকা হবে।
প্রশাসক জোর দিয়ে বলেন, এ নিয়ে তাঁরা রাজনীতি করবেন না। ইতিহাসের পাতায় যাঁর যতটুকু অবদান লিখে রাখার মতো, সেই অনুযায়ী গ্রাফিতি আঁকা হবে।
মেট্রোরেলের পিলার রাজধানীর সবচেয়ে দৃশ্যমান জনপরিসরগুলোর একটি। তাই সেখানে কী আঁকা হবে এবং কাদের ছবি স্থান পাবে, তা স্বাভাবিকভাবেই জনগণের নজরে পড়বে। এর আগে এই পিলারগুলো থেকে পোস্টার সরানোর কাজ হয়েছে। এখন সেখানে গ্রাফিতি স্থাপনের মধ্য দিয়ে নগরের দেয়ালকে ইতিহাস স্মরণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
তবে উদ্যোগটি নিয়ে কিছু প্রশ্নও উঠতে পারে। প্রশাসক বলেছেন, অবদান অনুযায়ী সবার ছবি স্থান পাবে। কিন্তু কোন মানদণ্ডে কাদের ছবি বাছাই হবে এবং কারা সেই সিদ্ধান্ত নেবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জুলাই আন্দোলনে বিভিন্ন দল, সংগঠন ও সাধারণ মানুষের ভূমিকা ছিল। তাই গ্রাফিতিতে সবার প্রতিনিধিত্ব কতটা নিশ্চিত হয়, সেটিই এই উদ্যোগের বড় পরীক্ষা। একই সঙ্গে জনপরিসরের এমন কাজে দলীয় প্রভাবের অভিযোগ যেন না ওঠে, সে জন্য স্বচ্ছ প্রক্রিয়া জরুরি।
আবার নগরবাসীকে সরাসরি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। সাধারণ মানুষ নিজ হাতে ইতিহাসের স্মৃতি আঁকলে তা কেবল সরকারি আয়োজন না হয়ে জনগণের নিজস্ব উদ্যোগ হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে। রং ও ব্রাশ সরবরাহের মাধ্যমে অংশগ্রহণের সুযোগও সহজ করা হয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, মিরপুরের পিলারগুলোতে কী ধরনের ছবি ও বার্তা ফুটে ওঠে এবং তা নগরবাসীর কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হয়। উদ্যোগটি সফল হলে অন্য এলাকার মেট্রোরেল পিলারেও তা ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

