প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে স্থগিত হওয়া যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার নতুন তারিখ ঠিক হয়েছে। সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা আগামী ১৬ অক্টোবর, শুক্রবার বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
আজ শনিবার, ১০ অক্টোবর বেলা ১১টায় পরীক্ষাটি হওয়ার কথা ছিল। অধিদপ্তর পরীক্ষার সব প্রস্তুতি শেষ করেছিল। কিন্তু পরীক্ষার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরপর পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন তারিখ জানানো হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা-সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক তথ্য দ্রুতই মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
প্রশ্নফাঁসের ঘটনা তদন্তে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সকালে পরীক্ষা স্থগিতের সময় অধিদপ্তর শুধু ‘অনিবার্য কারণ’-এর কথা বলেছিল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন তারিখ ঘোষণা এবং তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত জানানো হলো। এতে বোঝা যায়, কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়েছে এবং দ্রুত সংকট সামলাতে চাইছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য এটি কিছুটা স্বস্তির খবর, কারণ অনিশ্চয়তা বেশি দিন টানতে হলো না। তিন লাখের বেশি প্রার্থীর অপেক্ষার সময়ও সংক্ষিপ্ত হয়েছে।
তবে কয়েকটি প্রশ্ন এখনো খোলা। প্রথমত, তিন কর্মদিবসে তদন্ত শেষ করা কতটা সম্ভব। প্রশ্নপত্র কোথা থেকে কীভাবে বেরিয়েছে, তা শনাক্ত করতে সাধারণত প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, প্রশ্ন প্রস্তুত ও ছাপার ধাপে জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট পর্যালোচনার প্রয়োজন হয়। অল্প সময়ে এসব কাজ গভীরভাবে করা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। দ্বিতীয়ত, নতুন পরীক্ষায় একই প্রশ্ন ব্যবহার হবে কি না, নাকি নতুন প্রশ্নপত্র তৈরি হবে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে কিছু বলা হয়নি। ফাঁস হওয়া প্রশ্ন আবার ব্যবহার করলে পরীক্ষার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তৃতীয়ত, অভিযোগ আসলে সত্য ছিল কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। কমিটির প্রতিবেদনেই তা স্পষ্ট হবে।
এ ধরনের ঘটনায় নিয়োগ পরীক্ষার প্রতি প্রার্থীদের আস্থা বড় বিষয়। কঠোর ব্যবস্থার ঘোষণা প্রশংসনীয়, কিন্তু সেটি কার্যকর হলেই আস্থা ফিরবে। তদন্তের ফল প্রকাশ, দায়ীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা জোরদার করার পদক্ষেপ কতটা স্বচ্ছভাবে নেওয়া হয়, সেদিকে নজর থাকবে।
আপাতত পরীক্ষার্থীদের জন্য করণীয় হলো ১৬ অক্টোবরের জন্য প্রস্তুত থাকা এবং এসএমএসে আসা নির্দেশনার অপেক্ষা করা। একই সঙ্গে তিন কর্মদিবস পর তদন্ত প্রতিবেদনে কী উঠে আসে, তা এই ঘটনার পরবর্তী দিক নির্ধারণ করবে।

