ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কক্সবাজার থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি অভ্যন্তরীণ যাত্রীবাহী ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ড্যাশ ৮-৪০০ মডেলের উড়োজাহাজটিতে আকস্মিক কারিগরি জটিলতা বা যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ রানওয়ে ফাঁকা করে জরুরি অবতরণের প্রটোকল সক্রিয় করে। এই জরুরি পরিস্থিতির কারণে শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মূল রানওয়েতে অন্যান্য সাধারণ ফ্লাইট ওঠানামা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়। চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পর বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে ফ্লাইটটি সফল ও নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
শাহজালাল বিমানবন্দর সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৪৩৬ নম্বরের ফ্লাইটটি শনিবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। নির্ধারিত ফ্লাইট সূচি অনুযায়ী দুপুর আড়াইটায় ফ্লাইটটির ঢাকায় স্পর্শ করার কথা থাকলেও জরুরি কারিগরি গোলযোগের ফলে নির্দিষ্ট সময়ে তা অবতরণ করতে পারেনি। কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ও রানওয়ে শতভাগ প্রস্তুত করার সুবিধার্থে ফ্লাইটের পাইলট ঢাকার ওপরের আকাশসীমায় প্রায় ৪০ মিনিট ধরে উড়োজাহাজটি নিয়ে চক্কর কাটতে থাকেন। এ সময় নিচ থেকে সার্বিক জরুরি নিরাপত্তা ও উদ্ধারকারী যন্ত্রপাতি তৈরি রাখা হয়।
উড্ডয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, কক্সবাজার থেকে উড্ডয়নের পর পরই বা উড্ডয়নকালে উড়োজাহাজটির একটি ল্যান্ডিং গিয়ার বা চাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে বিমানবন্দর এলাকায় চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। তবে এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ কিংবা বিমান বাংলাদেশের কোনো দায়িত্বশীল প্রতিনিধি চাকা খসে পড়ার বিষযে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট লিখিত নিশ্চয়তা প্রদান করেননি। একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, অনাকাঙ্ক্ষিত অপারেশনাল ও টেকনিক্যাল কারণে ফ্লাইটটির সময়সূচিতে কিছুটা বিলম্ব ঘটেছিল এবং বিকাল ৩টা ১০ মিনিটে তা নিরাপদে নামতে পেরেছে।
সাধারণত অভ্যন্তরীণ রুটের এই ড্যাশ ৮-৪০০ মডেলের টার্বোপ্রপ উড়োজাহাজগুলোতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জনের মতো যাত্রী ধারণ ক্ষমতা থাকে। বিমানে ঠিক কতজন যাত্রী অবস্থান করছিলেন সেটির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা কর্তৃপক্ষ প্রথম দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও, অবতরণের পর নিশ্চিত করা হয় যে বিমানে থাকা সকল যাত্রী, পাইলট এবং ক্রু মেম্বাররা সম্পূর্ণ সুস্থ ও অলৌকিকভাবে অক্ষত রয়েছেন। বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে বিমানটিকে নিরাপদে অবতরণ করাতে পারায় পাইলট ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল দলের তাৎক্ষণিক পেশাদারিত্বের প্রশংসা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।

